- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ২, ২০২২
নাগরিকত্ব প্রদানের আইনকে ধর্মনিরপেক্ষ করা উচিত, কেন্দ্রকে পরামর্শ ওয়াইসির
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সম্পর্কিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নিয়মে, গুজরাটের মেহসানা এবং আনন্দ জেলার কালেক্টরদের আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে আগত সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে দতন্ত করার ও নাগরিকত্ব দেওয়ার অধিকার দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই ব্যাপারে একটা বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। সেই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস–ই–ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে ধর্ম নিরেপেক্ষ করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন।
ওয়াইসি বলেছিলেন, ‘আফগানিস্তানের অভিবাসীদের প্রথমে দীর্ঘমেয়াদী ভিসা দেওয়া হয়েছে, তারপর তারা নাগরিকত্ব পেয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) এবং জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)–এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এই নাগরিকত্ব আইনে মুসলমানদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই আইনটিকে ধর্ম নিরপেক্ষ করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি নিয়ে শুনানি চলছে। দেখা যাক কী হয়।’
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা কালেক্টরদের নাগরিকত্ব প্রদানের অধিকার এই প্রথম দেওয়া হয়নি। এর আগে ২০১৬, ২০১৮ এবং ২০২১ সালে গুজরাট, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নাগরিকত্ব দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। বৈধ নথিতে ভারতে প্রবেশকারী ছটি সম্প্রদায়ের অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি কেন্দ্রের বিষয়। তবে সময়ে সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যের কর্মকর্তাদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করে।
পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, জৈন, শিখ, পার্সি, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অভিবাসীদের নাগরিকত্ব প্রদানকারী আইনটি বিরোধীদের কঠোর সমালোচনার মধ্যে সংসদে পাস হয়। এই আইনের পিছনে সাম্প্রদায়িক বিষয়টিকে নির্দেশ করে। এই নাগরিকত্ব আইনে স্পষ্টতই মুসলমানদের বাদ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনটি ২০১৯ সালে ১১ ডিসেম্বর সংসদে পাস হয়েছিল। পরের দিন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন আসে। ২০২০ সালের জানুয়ারির শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনটি ১০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তবে পরে রাজ্যসভা এবং লোকসভার সংসদীয় কমিটিগুলি অনুরোধ করেছিল যে, করোনার জন্য দেশের অবস্থা খারাপ। সেই কারণে এই আইন কার্যকর করার জন্য আরও কিছুদিন সময় দেওয়া হোক। তারপর এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ওপর ২২০টি হলফনামা সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ে।
❤ Support Us






