- বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ জোটের প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা নোমান মাহমুদ
যৌথ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি জোটের প্রথম মহাসচিব নিযুক্ত হলেন পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এই যৌথ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সংগঠনের সাধারণ সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, নোমান মাহমুদকে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে হিলাল-ই-ইমতিয়াজ (সামরিক) সম্মানেও ভূষিত করা হয়েছে।
৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি ন্যাটোর ৫ নং অনুচ্ছেদের মতো একইভাবে কাজ করবে। অর্থাৎ, এই চুক্তির অন্তর্গত তিনটি দেশের যে কোনো একটার ওপর অন্য কোনো দেশের সশস্ত্র হামলাকে তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এ চুক্তির লক্ষ্য, তিনটি দেশের মধ্যে যৌথ নিরাপত্তা, সম্মিলিত প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা। চুক্তিতে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জোটে যোগদানের সুযোগও রাখা হয়েছে। জোটের প্রথম বৈঠক ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়। তিন দেশের কর্মকর্তারা জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা করেন। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, জোটের প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান থেকে।
নোমান মাহমুদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে বেলুচ রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। কোয়েটার কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, মিশরের কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ইসলামাবাদের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন নোমান মাহমুদ। তিনি যুদ্ধবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে অতিবাহিত হয়েছে, যেখানে তিনি বিভিন্ন পদে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং পরে প্রধান প্রশিক্ষক হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি সামরিক কৌশল এবং অভিযানগত পরিকল্পনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
মেজর জেনারেল হিসেবে তিনি উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটা পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন, যে এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বেশ কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছিল। এরপর তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই–এর অধীনস্থ অ্যানালাইসিস ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক হন। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বৈদেশিক ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করাই ছিল তাঁর কাজ। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করাও নোমানের দায়িত্ব ছিল।
নোমান মাহমুদ ২০১৯ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।এরপর তিনি জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি পেশোয়ারে একাদশ কোরের কমান্ড গ্রহণ করেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে এই পদ ছাড়ার পর, তিনি ইসলামাবাদে অবস্থিত জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এর ৩৫তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে সেনাপ্রধান পদের জন্য নোমানকে একজন সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। এখন রিয়াদে তাঁর প্রধান দায়িত্ব হবে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা, তিনটি দেশের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং রাজনৈতিক চুক্তিগুলোকে বাস্তব নিরাপত্তা সহযোগিতায় রূপান্তর করা।
❤ Support Us








