Advertisement
  • বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত, হোয়াইট হাউসে চালু ‘ট্রাম্প টিভি’, তুঙ্গে বিতর্ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত, হোয়াইট হাউসে চালু ‘ট্রাম্প টিভি’, তুঙ্গে বিতর্ক

সংবাদমাধ্যমের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজস্ব প্রচারমাধ্যম চালু করল হোয়াইট হাউস। মঙ্গলবার ভোরে (ভারতীয় সময়) চালু হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে একটি ২৪ ঘণ্টার ইউটিউব স্ট্রিম। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন ভিডিওবার্তা, ভাষণ, প্রশাসনিক ঘোষণা এবং তাঁর পুরনো বক্তৃতাও সম্প্রচার করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তিনটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং তাঁদের প্রেস ক্রেডেনশিয়ালও বাতিল করা হয়েছে।
গত শুক্রবার এই তিন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। এর পরেই তাঁদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আরও কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম হোয়াইট হাউসের কভারেজ সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফক্স নিউজ়, এবিসি নিউজ়, সিবিএস নিউজ় এবং এনবিসি নিউজ়-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম যৌথ ভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম সংবাদমাধ্যমে সরাসরি তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। সেই সময়েই ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করল হোয়াইট হাউস। অনেকের মতে, সংবাদমাধ্যমের কভারেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যে সম্প্রচার-ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এর উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন মত রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তাঁর সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ তিনি দাবি করেছেন, হোয়াইট হাউস সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আঘাত করছে না। তাঁর বক্তব্য, তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন, তবে ‘ভুয়ো খবর’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্প ‘ভুয়ো খবর’-কে আমেরিকায় ‘ক্যানসারের মতো’ ছড়িয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও। রাজনীতিতে আসার আগে সিএনএন-এ কাজ করা ভান্সের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের একাংশ ‘বামমনোভাবাপন্ন একপেশে প্রচার’ চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলি এখনও সংবাদ পরিবেশন এবং বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, তবে হোয়াইট হাউসের ভিতরে কাজ করার সুযোগ তাদের থাকবে না।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো। সংবাদমাধ্যমগুলির অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের কাজের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। আগামী বুধবার ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
ফলে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউস নিজস্ব মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সরাসরি তুলে ধরার একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করলেও, একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা এবং প্রেসের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!