- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৫, ২০২৩
পুরমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু কাজ হয়নি, খুব্ধ স্মার্ট সিটির বাসিন্দার । আধুনিক শহরে থেকে কেন পঞ্চায়েত তকমা, ভোট বয়কটের ডাক নিউটাউনবাসীর
থাকছেন অত্যাধুনিক শহর নিউটাউনে, অথচ ভোট দিতে হবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে! এটা সম্ভ্রান্তদের পক্ষে মেনে নেওয়া সহজ নয়। তাই এবার নিউটাউনের ৮টি আসনে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট বয়কট করলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। তারা রীতিমতো পোস্টার দিয়ে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন। আর এর ফলে বিপদে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন ও শাসক দলের নেতানেত্রীরা। যদিও গ্রো ফেব্রুয়ারী মাসে রাজ্যের পুর ও নগরউন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, “নিউটাউন এলাকাকে পৃথক পুরসভা করা হবে।” যদিও সেটা হয়নি।
নিউটাউন স্মার্ট সিটি হিসেবে পরিচিত হলেও এখনও নিউটাউনের বেশ কিছু এলাকা পঞ্চায়েতের মধ্যে রয়েছে। ফলে অন্যান্য পঞ্চায়েতগুলির মতো স্বাভাবিকভাবেই সেখনেও আগামী শনিবার ৮ জুলাই নির্বাচন হবে। এদিকে, নিউটাউনকে পুরসভার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে। এই অবস্থায় আগেই পঞ্চায়েত ভোট বয়কট করার ডাক দিয়েছিলেন নিউটাউনের বাসিন্দারা। এবার সেই বয়কটের দাবিতে ওখানকার বাসিন্দারা আরও সোচ্চার হয়েছেন। এর ফলে নিউটাউনের প্রায় ১২ হাজার নাগরিক পঞ্চায়েত ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন। নিউটাউনের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তাঁরা ভোট বয়কটের দাবিতে ব্যানার, হোর্ডিং টাঙিয়ে দিয়েছেন। ভোটার ২ দিন আগে বাসিন্দাদের প্রতিবাদের ফলে এখন নাজেহাল সমস্ত রাজনৈতিক দল। সমস্যায় পড়েছে রাজ্য প্রশাসন।
রাজারহাট নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া ১সি, ১ডি, ১এ, ২বি, ২ই, ১বি, ২ এলাকাকে জ্যাংড়া হাতিয়াড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই প্রশাসন এই কাজ করেছে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁরা যখন ওই এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তখন থেকেই এলাকাটি নিউটাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ বা এনকেডিএ’র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সংস্থাটিই ওই এলাকায় যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা প্রদান করে। এমনকি তার জন্য এখানকার বাসিন্দারা করও দেন। এখন তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম ভাবে কথা না বলে, তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এই এলাকাকে গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ওই এলাকাকে ঢোকানো হয়েছে তার সঙ্গে কোনও যোগই নেই ওই এলাকার বাসিন্দাদের। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়ার ৮টি এলাকাকে গ্রাম পঞ্চায়েতের পৃথক পৃথক ৮টি আসনের ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার মতো সামান্য পরিকাঠামোও নেই। সব থেকে বড় কথা তাঁরা যেখানে কর দেন নিয়মিত সেখানে কেন তাঁদের অন্ধকারে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তার জেরেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত এর আগে নিয়েছিলন। এবার সরাসরি ভোট বয়কটের ডাক দিলেন।
এই ঘটনার জেরে আগেই এলাকায় অস্বস্তি ছড়িয়েছিল শাসক শিবিরের পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষমহলেও। তার পরেই পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, আসন পুনর্বিন্যাসের জেরে এনকেডিএ’র অধীনে থাকা নিউটাউনের একাধিক এলাকা পঞ্চায়েতের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। যা নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সর্বস্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিউটাউন পঞ্চায়েত এলাকা হতে পারে না। কারণ, সেটা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। এক অঞ্চলের মানুষ কেন দুই জায়গায় কর দেবেন? এটা সংশোধন করে দেওয়া হবে। এই বিষয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে পঞ্চায়েত মন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন বলেও গত ফেব্রুয়ারী মাসে জানিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। জেলাশাসকের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি সেই সময় জানান। ফিরহাদ হাকিম বলেন, এটাকে আগামী দিনে পৃথক পুরসভা করা হবে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই এই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হবে। বিধানসভার অধিবেশনে এ নিয়ে সংশোধনী আনা হতে পারে। তবে ফিরহাদ হাকিমের প্রতিশ্রুতিতে যে কোনও কাজ হয়নি সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। আর তাই পঞ্চায়েত ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন নিউটাউনের প্রায় ১২ হাজার মানুষ।
❤ Support Us





