- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২৯, ২০২৬
বাংলার উন্নয়নে কেন্দ্রের নতুন কৌশল, সব মন্ত্রককে অর্থ জোগানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, প্রশাসনিক জট এবং কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অধ্যায় পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে স্পষ্ট নির্দেশ গিয়েছে— টাকার অভাবে পশ্চিমবঙ্গের কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেন আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশের পর থেকেই কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে কীভাবে পশ্চিমবঙ্গকে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা যায়, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি। শুধু নতুন বরাদ্দ নয়, বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল, পরিকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন, গ্রামীণ সড়ক, স্বাস্থ্য ও কৃষিক্ষেত্রে বাংলার বকেয়া অর্থ দ্রুত মেটানোর পথও খোঁজা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের সময় বাংলার উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলির বাস্তবায়ন তিনি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বলে সূত্রের দাবি।
কেন্দ্রের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, “বাংলার মতো বড় রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সহায়তা ছাড়া দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন।”
বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়ন, সড়ক পরিবহণ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা। তবে আপাতত শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা করে কোনও ‘বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ’ ঘোষণা করতে চাইছে না কেন্দ্র। কারণ, তেমন হলে বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যও একই দাবি তুলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তাই কেন্দ্রের পরিকল্পনা হল, চলতি কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং বিশেষ বরাদ্দের কাঠামোর মধ্য দিয়েই বাংলাকে অতিরিক্ত সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। অতীতে বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষেত্রে যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও সেই পথেই হাঁটতে চাইছে মোদি সরকার।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পিছনে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও। বিজেপি চাইছে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজের গতি মানুষের সামনে তুলে ধরতে। আর তার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থের জোগান। আগামী জুন মাসে রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বড় ঘোষণা বা ‘চমক’ রাখতে হলে রাজ্যের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকা জরুরি বলেই মনে করছে কেন্দ্র।
দিল্লির রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলাকে ঘিরে কেন্দ্রের এই সক্রিয়তা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, দীর্ঘদিন পর বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনিক স্থিতি বজায় রাখা এবং উন্নয়নের গতি ধরে রাখা। আর সেই লক্ষ্যেই আপাতত শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের পাশে দাঁড়াতে চাইছে কেন্দ্র।
❤ Support Us






