- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১৯, ২০২৫
বিদ্যুৎ বিদায়ের পর প্রাক্তনীর হাতেই বিশ্বভারতীর দায়িত্বভার, স্থায়ী উপাচার্য হলেন প্রবীর ঘোষ
দীর্ঘ সময়ের পর স্থায়ী উপাচার্য পেল রবি ঠাকুরের হাতে তৈরি আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বভারতী। ২০২৩ সালে ৮ নভেম্বর বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর অবসর গ্রহণের পর অন্তবর্তী উপাচার্য দিয়ে কাজ চালাচ্ছিল কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫ মাস পরে, মঙ্গলবার নয়া স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তনী, কৃতীমান কৃষিবিজ্ঞানী প্রবীর কুমার ঘোষ। তিনি ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরে ভারতীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিএআরের ডিরেক্টর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বিশবভারতীয় স্বতন্ত্র সংবিধানের ৩(৬) ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ বলে জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ১৯৫১ সালের আইন অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হয়, পরিদর্শক হিসাবে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য হিসাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। এমনকি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হলেন রাজ্যপাল ৷ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অশোক মাহাতোকে ই-মেল মারফৎ বিষয়টি জানানো হয়েছে ।
১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বভারতীর কৃষি বিভাগের ছাত্র ছিলেন প্রবীর কুমার ঘোষ। এরপর ছত্তিশগড়ের রায়পুরের আইসিএআর-এর উপাচার্য নিযুক্ত হন ৷ সেখান থেকে অবসর নেওয়ার পর বিশ্বভারতীর স্থায়ী উপাচার্যের দায়িত্ব পেলেন তিনি৷ নতুন দায়িত্ব পাবার খবর পেয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছেন, ‘শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন দুটি একে অপরের পরিপূরক। কালীমোহন ঘোষ, লিওনার্ড নাইট এলমহার্ট এবং আরও অনেকের প্রচেষ্টায় রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘদিনের চিন্তা-ভাবনার বাস্তব রূপ হিসেবে গড়ে উঠেছে এই স্থান। কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদেশে কৃষিবিজ্ঞানে শিক্ষা লাভ করে দেশে ফিরে এখানকার কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্ব নেন।’ অদ্ভুত সমাপতন, শ্রীনিকেতনে বিশ্বভারতীর কৃষিবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন বর্তমান উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। তিনি বলেন,’যেহেতু আমি এখানে পড়াশোনা করেছি, রবীন্দ্রনাথের আদর্শ আমি ভালোভাবে বুঝি। তা ছাড়াও, কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে তিন বছর ভারতের পক্ষ থেকে কোয়ালিটি এডুকেশনের কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে নতুনভাবে প্রবর্তন করতে হয়, শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন কীভাবে করা যায়, সে সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি। তাঁর ভাবনাধারার সঙ্গে আমি আন্তরিকভাবে পরিচিত। আমি নিজে মুর্শিদাবাদের সন্তান, ভালোলাগার বিষয় ছিল সংস্কৃত, বাংলামাধ্যমেই দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। তারপর গ্রাজুয়েশন করেছি বিশ্বভারতী থেকে। তাই আশা করি যে সংস্কৃতি বা ভাষার দিক থেকে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না।’ প্রসঙ্গত, প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে ছাত্র-উপাচার্য সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনের সংস্কৃতিতে আঘাত হানার। পড়ুয়া ও আশ্রমিকদের তরফে বারবার সংগঠিত হয় প্রতিবাদ। সংঘাতের জন্য কেন্দ্র-রাজ্যের টানাপোড়েনের সাক্ষী হতে হয় বিশ্বভারতীকে। আপাতত সে সবকিছু অতীত। উল্লেখ্য, স্থায়ী উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত হিসাবে সঞ্জয় কুমার মল্লিক, শিল্প সদনের অরবিন্দ মণ্ডল ও পল্লী সংগঠন বিভাগের বিনয়কুমার সরেন উপাচার্যের পদ সামলে এসেছেন। বস্তুত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীতে সেই প্রথম আদিবাসী সম্প্রদায়ের কোনও ব্যক্তি উপাচার্যের আসনে বসেছিলেন। এবার তাঁর দায়িত্বের সময়কাল শেষ হল।
❤ Support Us







