Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৬, ২০২৬

তিন শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা ঘিরে উন্মাদনা কালনায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তিন শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা ঘিরে উন্মাদনা কালনায়

রথযাত্রা লোকারণ্য মহা ধূমধামের ঐতিহ্য আড়াইশ বছরেরও বেশিদিন ধরে বহন করছে কালনা মহকুমা। মহকুমাজুড়ে গোটা ছয়েক রথযাত্রার ইতিহাস বহু পুরনো। প্রায় ৩০০ বছর আগে এলাকার বাসিন্দাদের অনুরোধে কালনার বৈদ্যপুরের সম্পন্ন নন্দী পরিবার রথযাত্রার সূচনা করেন। ১৩ চূড়া বিশিষ্ট ৫০ ফুট উচ্চ রথ টানার জন্য ব্যবহার করা হত হাতি-ঘোড়া। রথযাত্রার সময় ছড়া কাটতেন ভক্তরা। বৈদ্যপুরের নন্দী বুড়ো / রথ করেছে ১৩ চুড়ো / রথের মাথায় উঠল ধ্বজা / সবাই মিলে বাজনা বাজা। ছন্দপতন হয় ১৭৪২ থেকে ১৭৪৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। বর্গী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় রথের কাঠামো। পরবর্তী সময়ে ৯টি চূড়ার সাহায্যে তৈরি হয় রথের নবকলেবর। সেই রথটির যাত্রা আজও চলছে। রথে ঠাঁই দেওয়া হয় নন্দী পরিবারের কুলদেবতা রাজরাজেশ্বর ও বৃন্দাবন চন্দ্র।

আবার বর্ধমান রাজ পরিবারের অর্থানুকূল্যে তৈরি হয়েছিল কালনার লালজির রথ। সে বহুকাল আগের কথা। জেলার প্রাচীন রথগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই রথের কমিটি এবার রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান পেয়েছে। আর্থিক অনুদান পাওয়ায় এ বছর এই রথের জৌলুস এবার আরও বেড়েছে। রথের রশিতে টান দেন বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার, মহকুমাশাসক অহিনসা জৈনরা।  রাজাদের আমলে এই রথ টানার জন্য আনা হত হাতি। ব্যবহার করা হত মোটা রশি। রথটি একবার পুড়ে যাওয়ায় রথযাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে তৈরি হয় লোহার রথ। তারপর থেকেই রথযাত্রার সময় লালজির মূর্তিকে রথে চাপিয়ে গোটা শহর ঘোরানো হয়। এবারে সরকারি সাহায্য মেলায় রথযাত্রাকে ঘিরে শহরজুড়ে সাজো সাজো রব। সাজানো হচ্ছে গোটা যাত্রাপথকে। বয়স্ক ও শিশুরা যাতে নির্বিঘ্নে রথযাত্রা দেখানোর ব্যবস্থা হয়েছে। থাকছে সহায়তা কেন্দ্র। প্রসাদ বিলির বন্দোবস্তও হয়েছে। বর্ধমানের রাজাদের তৈরি শহরের ছোটদেউড়িপাড়ার জগন্নাথতলার প্রাচীন রথটির অবলুপ্তি ঘটায় পরবর্তী সময়ে বাসিন্দারা নতুন রথ বানিয়ে পুজো ও রথযাত্রার আয়োজন করেন।

কালনার বাঘনাপাড়ার গোপেশ্বর মন্দিরের রথটি তৈরি হয় ১৭১০ থেকে ১৭২৫ সালের মাঝে কোনও সময়ে। রথযাত্রায় এখানে গোপেশ্বর ও কানাই-বলাই পুজো পান। এছাড়া কালনার পাথুরিয়ামহল, নাদনঘাটের হাটসিমলা, জাহাননগর, দোগাছিয়া প্রভৃতি অঞ্চলের রথযাত্রাও বহু পুরনো।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!