- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- আগস্ট ২৩, ২০২৫
রুশ-ইউক্রেন শান্তিচুক্তিতে তিন শর্ত পুতিনের
ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই মধ্যস্থতা করুন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কি সহজে পরিসমাপ্তি হবে? শান্তি চুক্তির জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তিনটি কঠিন শর্ত আরোপ করেছেন ইউক্রেনের ওপর। যা ভলোদিমির জেলেনস্কির পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব। পুতিন যে শর্ত দিয়েছেন, তাতে ইউক্রেনের ভবিষ্যত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
আলাস্কায় ১৫ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন শান্তি চুক্তি নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা নিয়ে দুই শীর্ষ নেতা মুখ খোলেননি। শান্তি চুক্তির জন্য তিনটি শর্তের কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। গতবছর জুনে পুতিন দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনের চারটি প্রদেশ, উত্তরের ডোনেৎস্ক, লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে হবে। ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক নিয়ে ডনবাস গঠিত। সেই সময় পুতিনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন জেলেনস্কি।
পুতিন এবার যে নতুন শর্ত চাপিয়েছেন, তাতে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। ডোনেৎস্ক ও লুহানস্কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে হবে ইউক্রেনকে। এর বিনিময়ে ইউক্রেনের খারকিভ, সুমি ও নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে নিজেদের দখলে থাকা এলাকাগুলো ইউক্রেনকে ছেড়ে দেবে রাশিয়া। পাশাপাশি খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ায় সম্মুখ যুদ্ধ বন্ধ করবে রুশ বাহিনী। বর্তমানে ডনবাসের ৮৮ শতাংশ এবং জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসনের ৭৩ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে রয়েছে। ডোনেৎস্ক ও লুহানস্কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা যদি ইউক্রেন রাশিয়ার হাতে তুলে দেয়, তাহলে পুরো ডনবাস রাশিয়ার অধীনে চলে যাবে। এছাড়া রাশিয়া আরও শর্ত চাপিয়েছে যে, ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না। আর ন্যাটোও যাতে পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পূর্বদিকে অগ্রসর না হয়, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে হবে। পুতিনের এই দাবি অনেক পুরনো। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও শর্ত চাপিয়েছেন, যুদ্ধ পরবর্তীকালে নিরাপত্তার জন্য ইউক্রেনে কোনও পশ্চিমী কোনও দেশের সৈন্য মোতায়েন করা যাবে না ।
ইউক্রেন শেষ পর্যন্ত ডনবাস অঞ্চল রাশিয়ার হাতে তুলে দেবে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদি ছেড়ে না দেয়, তাহলে রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। ইউক্রেনকে এমনই বার্তা দিয়েছেন পুতিন। এছাড়া ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ের শর্ত জেলেনস্কির পক্ষে মানা কঠিন। তাঁর দাবি, আসলে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় না। তিনি বলেন, ‘শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝেই রাশিয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন যে, ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের সাক্ষাতের কোনও পরিকল্পনা নেই। কারণ বৈঠকের এজেন্ডা এখনও তৈরি নয়। অন্যদিকে, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট জানিয়েছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় আলোচনা চলছে। ইইউ–র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা ক্যালাস বলেছেন, রাশিয়া শান্তি চায় না।
ইউক্রেনও পিছিয়ে নেই। রাশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি পরিবহনকারী দ্রুজবা তেল পাইপলাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাম্পিং স্টেশনে আঘাত হেনেছে। যার ফলে হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়ায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলির মধ্যে হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়া এখনও তেল রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহ করছে। এই দুই দেশের সরকার ইউরোপীয় কমিশন, ইইউ নির্বাহীকে চিঠি লিখে জানিয়েছে যে, ক্ষতির কারণে রাশিয়ান তেল সরবরাহ কমপক্ষে পাঁচ দিন বন্ধ রাখতে হবে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আগেই ইউক্রেনকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছিলেন। অরবান গত বছর পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মস্কো গিয়েছিলেন , যা কোনও ইউরোপীয় নেতার রাশিয়া সফরের বিরল ঘটনা।
❤ Support Us






