- দে । শ
- অক্টোবর ৯, ২০২৬
হাফেজ থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রের পড়ুয়া, ফাহিমের সাফল্যে নয়া নজির
ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার মেলবন্ধন ঘটিয়ে ফের সাফল্যের নজির গড়ল পূর্ব বর্ধমানের মেমারি। কোরআন হাফেজ (সম্পূর্ণ মুখস্থ) হওয়ার পরে এ বার চিকিৎসক হওয়ার পথে মামূন ন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র ফাহিম তাহমিদ। সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজিতে উত্তীর্ণ হয়ে হাওড়ার উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেয়েছেন । প্রতিষ্ঠান সূত্রে খবর, ফাহিমের অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর তার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা।
হুগলির পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা ফাহিম মামূন ন্যাশনাল স্কুলের হিফজুল কোরআন প্লাস প্রোগ্রাম বা এইচকিউপি-র ছাত্র। কোরআন-এ হাফেজ হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার মূল ধারায় ফিরে এসে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে সাফল্য — তার এ যাত্রা নতুন করে সামনে এনেছে ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে প্রথাগত শিক্ষার সমন্বয়ের প্রশ্ন। যে শিক্ষাপদ্ধতির হাত ধরে ফাহিমের এই সাফল্য, তার লক্ষ্যই হলো হাফেজ পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন না হতে দেওয়া।
প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় হাফেজ পড়ুয়াদের সাধারণত ধর্মীয় শিক্ষার নির্দিষ্ট পাঠক্রম সম্পূর্ণ করার পরে সাধারণ স্কুলের পড়াশোনায় ফিরতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। শ্রেণিভিত্তিক পাঠক্রমের সঙ্গে তাল মেলানো, বিজ্ঞান ও অঙ্কের মতো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া — সবই বড়ো চ্যালেঞ্জ। সে সমস্যা কাটিয়ে পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার উপযুক্ত করে তুলতেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল মামূন ন্যাশনাল স্কুল। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রখ্যাত চিন্তাবিদ, ইতিহাসবিদ ও বাগ্মী গোলাম আহমাদ মোর্তজার উদ্যোগে ২০১৮ সালে হাফেজ পড়ুয়াদের জন্য চালু হয় এই বিশেষ শিক্ষামডেল। হিফজুল কোরআন প্লাস প্রোগ্রাম বা এইচকিউপি-তে হিফজ সম্পূর্ণ করা ছাত্রদের সরাসরি নবম শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার পাঠক্রমে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এর পরে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং-সহ বিভিন্ন পেশাদার ও উচ্চশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসার পথ তৈরি হয় তাদের সামনে।
এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মামূন ন্যাশনাল স্কুল, জামিয়া ইসলামিয়া মেমারি এবং জি ডি অ্যাকাডেমি ও তার কর্ণধার মোস্তাক হোসেনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ ইয়াসীন জানান, ‘এই পদ্ধতিতে ইতিমধ্যেই বহু ছাত্র ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স নিয়ে উচ্চ শিক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফাহিম তাহমিদ তারই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। সমাজকল্যাণে পথিকৃৎ মোস্তাক হোসেন সাহেবের জি.ডি. স্কলারশিপ পেয়ে বহু ছাত্রছাত্রী এরকম সফলতা অর্জন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ ফাহিমের সাফল্যের পিছনে আর্থিক সহায়তা ও শিক্ষার প্রসারে মোস্তাক হোসেনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠান। সমাজকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত মোস্তাকের জি ডি স্কলারশিপের মাধ্যমে বহু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের দাবি। আর্থিক বাধা যাতে মেধা ও উচ্চশিক্ষার পথে অন্তরায় না হয়ে দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই এ ধরনের বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে মনে করছেন শিক্ষামহলের একাংশ।
ফাহিমের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সমাজসেবী ও শিক্ষাব্রতী মোস্তাক হোসেন। তিনি বলেছেন, তাকে মানবতার সেবক হিসেবে কবুল করেন। ছাত্রছাত্রীরা দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে নিজেদের অবদান রাখুক এবং দেশের মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকুক। ফাহিমের এ কৃতিত্বে মামূন ন্যাশনাল স্কুল, জামিয়া ইসলামিয়া ও জি.ডি. একাডেমি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। শীঘ্রই তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
নিট-ইউজি দেশের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে এমবিবিএস-সহ স্নাতক স্তরের চিকিৎসা-শিক্ষায় ভর্তির অন্যতম প্রধান প্রবেশিকা পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি মেধাক্রম, আসন বণ্টন এবং কাউন্সেলিংয়ের নিয়ম মেনে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেতে হয় পড়ুয়াদের। ফাহিমের ক্ষেত্রে সে প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান।
❤ Support Us





