Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ২৬, ২০২৬

৩০০ বছরের ইতিহ্য, কেতুগ্রামে গবাদি পশু দৌড় প্রতিযোগিতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৩০০ বছরের ইতিহ্য, কেতুগ্রামে গবাদি পশু দৌড় প্রতিযোগিতা

পুজো শেষ। এবার কৃষিকাজে ফেরার পালা। তার আগে একবার পরখ করে নেওয়া বাড়ির গবাদি পশুদের শরীরের তাকত্ ঠিকঠাক আছে কিনা! আর তা দেখতেই কৃষকদের গরু-মোষের দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই প্রতিযোগিতার সাক্ষী কেতুগ্রামের কৃষিপ্রধান নিরোল গ্রাম। এই প্রতিযোগিতা দেখতেই নিরোল তো বটেই, আশপাশের ১০ গ্রামের বাসিন্দাদের ঢল নামে। প্রতিযোগিতায় শুধু গরু বা মোষই নয়, শামিল হয় ছাগল-ভেঁড়াও।

বর্ধিষ্ণু এই গ্রামটির আকৃতি গোলাকার। গোটা গ্রামটিকে বেঁধেছে বৃত্তাকার একটি রাস্তা। সেই রাস্তা ধরেই কিষান-রাখালরা নিজেদের গরু, মোষ, ছাগল, ভেঁড়া নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতায় নামেন। হাতে পাঁচনবাড়ি। লড়াই জিততে দ্রুত ছোটার জন্য পাঁচনের ঘা বসিয়ে দেন গরু-মোষের পিঠে। কেউ আবার গতি বাড়াতে লেজে কষে মোচড় দেন। প্রতিযোগিতায় জয়ী প্রথম তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয়। কাটোয়া মহকুমার প্রাচীন ইতিহাস গবেষক রণদেব মুখোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘কৃষি অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের প্রতিযোগিতার রীতি সুপ্রাচীন। বর্ষার পর দুর্গাপুজো পর্যন্ত কৃষিকাজ তেমন না থাকায় গরু-মোষগুলি সাধারণত বিশ্রামেই থাকে। পুজোর পরপরই শুরু হয় রবিশস্য মরশুম। সেই মরশুমের জন্য গরু-মোষ কতখানি উপযোগী, তা পরখ করার জন্যই প্রাচীন ভারতের এই প্রতিযোগিতার দস্তুর বহন করে চলেছে নিরোল গ্রাম।’ গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সুবোধ মুখোপাধ্যায়, শরদিন্দু রানোরা মনে করেন, ‘গরু-মোষ ছোটার সময় রাস্তাজুড়ে প্রচুর গোবর ও গোমূত্র পড়ে। এতে রাস্তাঘাট শুদ্ধ হয়।’ তবে কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ব্যবহার দিন-কে-দিন বেড়ে চলায় বাড়িতে গরু বা মোষ রাখার চল্ কমছে। তাই দুর্গাপুজোর পর গবাদি পশুর দৌড় প্রতিযোগিতার দীর্ঘদিনের এই ধারা কতদিন টিকে থাকবে, সে ব্যাপারে সংশয়ী নিরোল গ্রামের বাসিন্দারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!