Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ১৪, ২০২৬

দল আলাদা হলেও, প্রতিবাদের লক্ষ্য একই : ‘সিজেপি’ নেতাদের গ্রেফতারিতে সরব রাহুল, কেন্দ্রকে নিশানা অভিজিৎ দীপকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দল আলাদা হলেও, প্রতিবাদের লক্ষ্য একই : ‘সিজেপি’ নেতাদের গ্রেফতারিতে সরব রাহুল, কেন্দ্রকে নিশানা অভিজিৎ দীপকের

‘যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনোভাবেই অপরাধ নয়। এর জন্য যুবকদের জেলে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ। ‘সিজেপি’, পড়ুয়া, যুবসমাজ, সাংবাদিক, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ব্যানার আলাদা হতে পারে, কিন্তু দাবি একটাই। সমস্ত প্রতিবাদ আসলে একটাই আন্দোলন—নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লড়াই। যন্তরমন্তর ভারতের মানুষের। আমরা তা ফিরিয়ে নেবই।’ বুধবার, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র নেতাদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যন্তরমন্তরে প্রতিবাদের অধিকার,’ সিজেপি’-র আন্দোলন এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা ওড়ানোকে অপরাধ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে রাহুলের বক্তব্য, প্রতিবাদ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সে অধিকার প্রয়োগের জন্য যুবকদের জেলে পাঠানো উচিত নয়। তাঁর এই অবস্থানকে সিজেপি-র আন্দোলনের প্রতি কংগ্রেসের প্রকাশ্য সমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে ‘সিজেপি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন এবং প্রতিবাদকারীদের যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন ছিল, দিল্লি কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অথবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ব্যক্তিগত সম্পত্তি? দিল্লি পুলিশের অনুমতি না মিললেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ‘সিজেপি’ কর্মীরা গ্রেফতারির মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, যন্তরমন্তর দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদ ও আন্দোলনের পরিচিত স্থান। সেখানে বিধিনিষেধ আরোপ করে মানুষের প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। এই প্রতিবাদস্থলের সরকারি স্বীকৃতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর হুঁশিয়ারি, দিল্লির প্রতিবাদ আটকে দেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও যন্তরমন্তর তৈরি হবে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থলে বিধিনিষেধ জারি করে আন্দোলনের কণ্ঠস্বর থামানো সম্ভব নয় বলেই তাঁর দাবি। যন্তরমন্তরে ঢোকার চেষ্টা এবং পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করার অভিযোগে ‘সিজেপি’-র নেতা সৌরভ দাস ও অভিষেক রাঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, জাতীয় পতাকা ওড়ানো, যন্তরমন্তরে জমায়েতের অধিকার নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

‘সিজেপি-‘র আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস আর পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকে। জুলাই মাসে যন্তরমন্তরে টানা ১৭ দিনের আন্দোলনের পর সংগঠনটি জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তাদের আন্দোলনের অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। ‘সিজেপি’-র আন্দোলন আলোচনায় এলেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রথম দিকে সংগঠনটিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করা থেকে দূরে ছিল। কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তারা আগেই ‘ছাত্রন কি গুঞ্জ’ ও ‘ভোট চোরি’ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালাচ্ছে। ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সিজেপি’-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কংগ্রেস অংশ নেয়নি। আবার ১২ অক্টোবর বিরোধী দলগুলির মিছিলেও ‘সিজেপি’-কে দেখা যায়নি। ফলে একই ধরনের দাবি নিয়ে বিরোধীদের পৃথক কর্মসূচি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।

তবে মঙ্গলবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকদের সঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি। কোনো সমান্তরাল প্রতিবাদ নেই, প্রতিবাদ একটাই।’ কংগ্রেসের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানানোর পর ‘সিজেপি’ নেতাদের গ্রেফতারির ঘটনায় রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। নাগরিক সমাজের সদস্য ও ছাত্রনেতাদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ফলে একই দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ গ্রেফতার হলে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোও তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ‘সিজেপি’ নেতাদের গ্রেফতারির নিন্দা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, নিজেদের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য ভারতীয়দের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির শাসনে ভারত এমন পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে, যা তিনি ‘পাকিস্তানীকৃত ভারত’ বলে উল্লেখ করেছেন। সিপিআই(এমএল)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও ‘সিজেপি’ নেতাদের গ্রেফতারির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যন্তরমন্তর যে দিল্লির সাধারণ মানুষের প্রতিবাদস্থল, তা গোটা বিশ্ব জানে। সিজেপি নেতাদের হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে তিনি ‘হাস্যকর শাস্তি’ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী নির্দেশের বিরোধিতা করে যন্তরমন্তরকে মানুষের জন্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

যন্তরমন্তরকে প্রতিবাদের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ এবং তার সরকারি স্বীকৃতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধী দল ও ‘সিজেপি’-র আপত্তি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। একদিকে প্রশাসনের অনুমতি ও বিধিনিষেধের প্রশ্ন, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার — এই দুইয়ের সংঘাতই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। রাহুল গান্ধীর ‘সব প্রতিবাদ একটাই’ বার্তা এবং অভিজিৎ দীপকের ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও যন্তরমন্তর তৈরি হবে’ হুঁশিয়ারি এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই সংঘাত আগামী দিনে বিরোধী ঐক্য, ছাত্র আন্দোলন, প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!