Advertisement
  • দে । শ বৈষয়িক
  • ডিসেম্বর ১৫, ২০২২

কেন্দ্রের ভুল নীতিতেই অর্থনৈতিক অসাম্য বাড়ছে দেশে।সঙ্কট আরও বাড়বে অভিমত রাজনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেন্দ্রের ভুল নীতিতেই অর্থনৈতিক অসাম্য বাড়ছে দেশে।সঙ্কট আরও বাড়বে অভিমত রাজনের

ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রঘুরাম রাজন। বুধবার, রাজস্থানে ভারত জোড়ো যাত্রার সান্ধ্য বিরতিতে  রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন আর বি আই এর প্রাক্তন গভর্নর।

বুধবার রাজস্থানে, ভারত জোড়ো যাত্রার ৯৫তম দিনে পদযাত্রায় সামিল হন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতীয় অর্থনীতির তুলনামূলক আলোচনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে রাহুল রাজনের মতামত জানতে চাইলে, তিনি বলেন আগামী বছর যদি ৫% আর্থিক বিকাশও  হয় তাহলে সেটা ভারতের জন্য সৌভাগ্যের। এরপরেই দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের পরিমাপ পদ্ধতির সমস্যার কথা তিনি বলেন।কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতিতে, গতবছরের তুলনায় দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার নিয়ে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্ণর বলেন, অতিমারির সময়ের সাপেক্ষে এ বছরের আর্থিক বিকাশের হারকে ভালো বলেই ধরতে হবে। কিন্তু অতিমারির আগে থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতের বিকাশের হার মাত্র ২%। যা ভারতের অর্থনীতির মন্দীভূত দশাকেই চিহ্নিত করে।তাঁর ব্যাখ্যা, অর্থনীতির বিকাশের এই ধীর গতি অতিমারির বহু আগে থেকেই চলছে। আসলে যে সমস্ত আর্থিক সংস্কার অর্থনীতির গতিকে ত্বরান্বিত করতে পারত তার কোনটাই নেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার।

রাজনের আশঙ্কা , মুদ্রাস্ফীতির হার আরও বাড়বে, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে । তিনি আরও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিচারে আগামী বছরে ভারতীয় অর্থনীতির বিকাশের সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার দিকেই তাঁর ইঙ্গিত। পাশাপাশি রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে তাঁর আশঙ্কা।

তিনি বলেন, অতিমারির সময়, ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়ি  থেকে  কাজ করবার মাধ্যমে সমাজের উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণি তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতাকে বজায় রাখতে পেরছিল। অন্যদিকে কারখানা, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দেশের নিম্নবিত্ত মানুষ চরম আর্থিক দুর্দশার সম্মুখীন হন। তাদেরকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা হয়তো ছিল। কিন্তু তাদের উপার্জন বাড়েনি।সরকারি স্তরে সেরকম উদ্যোগও দেখা যায়নি। ফলে দেশ জুড়েই বেড়েছে আর্থিক অসাম্য ।

রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনায় দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে তিনি বলেছেন, সরকারের উচিত বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। এজন্য তিনি বেসরকারি ক্ষেত্রগুলোকে আরও বেশি উৎসাহদানের, সুযোগ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এদিনের আলোচনায় তিনি বলেন, সরকারি ক্ষেত্রে দেশে নতুন কাজের সুযোগ কম তাই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির  জন্য বেসরকারি  ক্ষেত্রগুলোকেই চাঙ্গা করতে হবে।

এই আলোচনায় রাহুল গান্ধী স্বাধীনতার পর একে একে সবুজ বিপ্লব, শ্বেত বিপ্লব, কম্পিউটার বিপ্লব ইত্যাদি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে  ‘দেশের পরবর্তী বিপ্লব সম্পর্কে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নরের অভিমত জানতে চাইলে রাজনের বলেন, ‘তা একমাত্র ঘটতে পারে  পরিষেবা ক্ষেত্রে’। পরিষেবা ক্ষেত্রের সাফল্যের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে  তিনি বলেন এখন আমেরিকা না গিয়েও ভারতে  থেকেও ভারতীয়রা আমেরিকার হয়ে কাজ করতে পারে আর পরিবর্তে উপার্জন করতে পারে বিদেশি মুদ্রা। চিকিৎসক টেলি মেডিসিন মারফত রোগীর চিকিৎসা করছেন। ফলে পরিষেবা ক্ষেত্রে শ্রম রপ্তানি হার বৃদ্ধিই ভারতকে বিশ্বের মহা শক্তিশালী দেশের তালিকায় নিয়ে আসতে পারে ।

শুধু এখানেই থেমে থাকেননি রঘুরাম। ভারতের ভবিষ্যত সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিকল্প  শক্তির ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারন বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের এক গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।  দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশ প্রত্যেক দেশই এই সংকটের শিকার। ভারতের সুস্থির আর্থিক উন্নয়ন এই ক্ষেত্রের প্রসারের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে আছে বলে মত রাজনের।

প্রসঙ্গত, বুধবার ভারত জোড়ো যাত্রায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নরের যোগদানের তীব্র সমালোচনা করেছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। ভারতে অর্থনীতির ওপর রঘুরামের বক্তব্য অতিরঞ্জিত এবং তাঁকে সুযোগ সন্ধানী বলে কটাক্ষ করেছে পদ্ম শিবির। বিজেপির পররাষ্ট্র দপ্তরের  প্রধান বিজয় চৌথাইওয়ালে তাঁর টুইটে লিখেছেন, ‘একজন প্রাক্তন আরবিআই প্রধানের জন্য দেশ দশটি মূল্যবান বছর নষ্ট করেছে। মোদি সরকারকে ধন্যবাদ এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। আরআরআর (রঘু রাম রাজন) দিল্লী থেকে শিকাগো পর্যন্ত হাঁটতে পারেন।’ প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, বিজেপির সম্পূর্ণ ক্যাবিনেটের অযোগ্যতাই তাদের বক্তব্যে ফুটে উঠছে।তাই তাঁরা রঘুরাম রাজনের মতো অর্তনীতিবিদের সমালোচনা করছেন।

প্রসঙ্গত সেপ্টেম্বরের ৭তারিখে রাহুল গান্ধি ভারত জোড়ো যাত্রার সূচনা করেন।এই শুক্রবার ১০০ দিন অতিক্রম করবে সেই যাত্রা ।

 


❤ Support Us
ভেসে যায় নধরের ভেলা, ভেসে যায় বেহুলা পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
ঈশানবঙ্গের শক্তি পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
error: Content is protected !!