Advertisement
  • এই মুহূর্তে বৈষয়িক
  • এপ্রিল ৮, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির আবহে ‘অপেক্ষার নীতি’, রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই স্থির রাখল আরবিআই। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সতর্কবার্তা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির আবহে ‘অপেক্ষার নীতি’, রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই স্থির রাখল আরবিআই। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার আবহে সুদের হারে বড়োসড়ো কোনো বদল না এনে সতর্ক পথেই হাঁটল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বুধবার, মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক শেষে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো একই স্তরে রইল এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সুদের হার। ফলে আপাতত বাড়ি-গাড়ির ঋণের ভাসমান সুদের হারে স্বস্তি বা চাপ— কোনোটাই পড়ছে না।

সোমবার, ৬ এপ্রিল নতুন অর্থবর্ষ ২০২৬-’২৭-এর প্রথম মুদ্রানীতি বৈঠকে বসেছিল ৬ সদস্যের কমিটি। টানা ২ দিনের আলোচনা শেষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার পথেই হাঁটে তারা। গত বছরের ৫ ডিসেম্বরের পর থেকে এই হারে কোনো পরিবর্তন আনেনি আরবিআই। যদিও তার আগে ২০২৫ সালে একাধিক দফায় সুদের হার কমিয়ে মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এমনকি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম রেপো রেট কমানোর সিদ্ধান্ত নেন মালহোত্রা।

এ ঘোষণার সময়কালও তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দু-সপ্তাহের ‘দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা করেছেন। তার জেরে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলারে নেমে আসে। ভারতীয় শেয়ারবাজারেও তার প্রভাব পড়ে, সেনসেক্স এক লাফে ২,৭০০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পায়। ইরানও হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে বলে খবর, যা বিশ্ব বাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে স্বস্তির আবহে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত নয় আরবিআই। গভর্নর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং তার প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা ভারতের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। আমদানিনির্ভর জ্বালানির খরচ বাড়লে তা মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে, পাশাপাশি চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও প্রসারিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আরবিআইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে তা বেড়ে যথাক্রমে ৪.৪ শতাংশ এবং ৫.২ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও চতুর্থ ত্রৈমাসিকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, তখন তা কমে ৪.৭ শতাংশে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে খুচরো বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের চাপ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

শুধু মুদ্রাস্ফীতিই নয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকেও নজর রাখছে আরবিআই। তাদের অনুমান, নতুন পরিসংখ্যান পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার ফলে গত অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে চলতি অর্থবর্ষে আন্তর্জাতিক ঝুঁকির কারণে বৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হতে পারে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রথম কোয়ার্টারে ৬.৮ শতাংশ, দ্বিতীয়ে ৬.৭ শতাংশ, তৃতীয়ে ৭ শতাংশ এবং চতুর্থ কোয়ার্টারে ৭.২ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। একই সঙ্গে আরবিআই জানিয়েছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনো যথেষ্ট মজবুত। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি সূচকগুলি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থিতিশীল গতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শক্তিশালী ব্যক্তিগত ভোগ এবং বিনিয়োগের ধারাবাহিক চাহিদাই এই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। তবে সংঘাতের তীব্রতা ও সময়কাল, জ্বালানি এবং পরিকাঠামোর সম্ভাব্য ক্ষতি— এই সমস্তই ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এ দিনের ঘোষণায় সুদের অন্যান্য হারেও বড়ো কোনো বদল আনা হয়নি। স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি রেট ৫ শতাংশ এবং মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি ও ব্যাঙ্ক রেট ৫.৫ শতাংশেই রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে ট্রেড প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ডিউ-ডিলিজেন্সের বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে শিথিল করার কথাও ঘোষণা করেছে আরবিআই।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!