- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ৩, ২০২৬
তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে, ৫৯ বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে বিরোধীদলের দাবি পেশ ঋতব্রতদের
তৃণমূল কংগ্রেস কি সত্যিই ভাঙনের মুখে ? এই প্রশ্নকে ঘিরেই বুধবার সকাল থেকে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। দলের বিক্ষুব্ধ ও বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছন । তাঁর সঙ্গে একে একে হাজির হন আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক । বৈঠক শেষে ঋতব্রতরা স্পিকারের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানান। তাদের চিঠি গ্রহণ করেছেন অধ্যক্ষ । বিকেলের মধ্যেই স্পষ্ট হবে সিদ্ধান্ত ।
বিধানসভায় আসেন অরূপ রায়, শিউলি সাহা, আখরুজ্জামান, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, চন্দ্রনাথ সিংহ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিধায়ক। তাঁদের অনেকেই দাবি করেন, তাঁরা নতুন পরিষদীয় সমীকরণের অংশ ।
বিধানসভায় ঢোকার আগে বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেনে নিয়েছেন। বিধায়ক সন্দীপন সাহার দাবি, দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ।
অন্যদিকে, বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে তাঁরা বৈঠকে বসবেন। কে এই বৈঠক ডেকেছেন, প্রশ্ন করা হলে তাঁর উত্তর, “আমরা সবাই।” ইতিমধ্যেই বিধানসভার নৌসার আলি কক্ষে বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠক শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ কি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই থাকবে, নাকি বিদ্রোহী শিবির দলের উপর প্রভাব বিস্তার করবে?
এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দিয়ে বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে স্পিকার কলকাতায় না থাকায় সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির দাবি করেছিল, ৫২ থেকে ৫৫ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ চিঠি দিয়ে তারা প্রকৃত বিরোধী দলের মর্যাদা দাবি করবে। বুধবার সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিধানসভায় হাজির হন তাঁরা।
গত কয়েকদিন ধরেই ‘সইকাণ্ড’ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিধানসভার স্পিকার বিরোধী দলনেতার নামে কোনও চূড়ান্ত অনুমোদন না দেওয়ার পর থেকেই জল্পনা আরও বাড়ে।
যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে বিষয়টিকে ‘জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি শুধু বিধানসভার কাজে এসেছেন। ৫০ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে আছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আমি আমার এবং সন্দীপন ছাড়া কারও দায়িত্ব নিতে পারব না ।”
সোমবারই তৃণমূল ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে। এরপর তাঁরা অভিযোগ করেন, গত ৬ মে-র বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের কোনও প্রস্তাব নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র উপস্থিতির খাতায় নেওয়া সইকে পরে রেজোলিউশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর। ৬ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে জয়ী বিধায়কেরা পরিষদীয় দলের নেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের দায়িত্ব দলনেত্রীকে দেন বলে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয় ।
এরপর তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করা হয়েছে। এই মর্মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হয় ।
কিন্তু বিধানসভা সেই চিঠি গ্রহণ করেনি। কারণ, পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলনেতা বা অন্যান্য পদাধিকারী নির্বাচন পরিষদীয় দলের বৈঠকেই করতে হয় বলে স্পিকারের দফতরের ব্যাখ্যা সামনে আসে ।
পরবর্তীতে ১৯ মে কালীঘাটের বৈঠকে বিধায়কদের সই নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে । বিদ্রোহী বিধায়কদের দাবি, সেই সই নিয়েই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে ।
এখন নজর বুধবারের বৈঠক এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে । বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।
❤ Support Us





