Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫

পুড়ে ছাই ভবন, নথিপত্র— নেপালে চলছে সাদা তাঁবুর সুপ্রিমকোর্ট!

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পুড়ে ছাই ভবন, নথিপত্র— নেপালে চলছে সাদা তাঁবুর সুপ্রিমকোর্ট!

‘জেন-জি’ আন্দোলনে নেপালের সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবন প্রায় ভস্মীভূত হয়ে গেছে। পুড়ে গিয়েছে বহু মূল্যবান নথিপত্র। এবার অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে বিচারব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সোমবার সকালে সাদা তাঁবু খাটিয়ে কাজ শুরু হয়েছে নেপালের সুপ্রিম কোর্টে। সাদা তাঁবুর উপরে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্ট নেপাল।’ সম্প্রতি নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি দ্রুত বিচারব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, তাঁর নেতৃত্বে নেপাল বিচার ব্যবস্থাকে পুনর্নির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, এমনকি এই সঙ্কটজনক মুহূর্তেও।

সুপ্রিমকোর্টে হামলার পেছনে ছিল দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ। মূলত দুর্নীতি এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অভ্যুত্থানের চেহারা নেয়। পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভের আঁচ কমেনি, প্রতিবাদকারীরা সরকারের বিভিন্ন ভবনই নয়, বরং নেপালের সর্বোচ্চ আদালতকেও লক্ষ্যবস্তু করে। সুপ্রিম কোর্টের ভবনে আগুন ধরানোর ফলে ৬২ হাজারেরও বেশি মামলার নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড পুড়ে যায়। নেপালের শীর্ষ আদালতের প্রবীণ আইনজীবী পূর্ণমান শাক্য জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক নথি হারিয়ে যাওয়ার ফলে নেপালের বিচার ইতিহাসের এক অমূল্য অংশ চিরতরে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি প্রকাশমান সিং রাউত সুপ্রিম কোর্টে আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আমরা ন্যায়বিচারের পথ থেকে বিচ্যুত হব না। আমাদের বিচার ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আদালত বন্ধ হবে না।’ তাঁর এই বক্তব্য বিচারিক সিস্টেমের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এদিকে, সোমবার সকালে, সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে পোড়া বাইক ও গাড়ির স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত চত্বরে, তাবু গাঁথা হয়েছে, যেখানে আদালত কর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। নেপালের বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কেদারপ্রসাদ কৈরালা জানিয়েছেন, অস্থায়ী ঠিকানায় বর্তমানে জরুরি মামলাগুলোর শুনানি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চলছে। নেপালের বিচার ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন প্রধান সুশীলা কার্কী একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া নথিগুলোর পুনর্গঠন কঠিন হলেও, বিচারকেরা এবং আইনজীবীরা নতুন করে কাজ শুরু করবেন। তবে, রেকর্ড এবং নথি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি দীর্ঘ সময় এবং প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। সবমিলিয়ে, নেপাল এই মুহূর্তে ইতিহাসের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে, কিন্তু বিচারক, আইনজীবী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দেশটির বিচার ব্যবস্থাকে দ্রুত পুনর্গঠন এবং পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধ পরিকর। ভবিষ্যতে বিচার ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য এ উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এমনটাই আশাবাদী বিচারব্যবস্থা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!