- গ | ল্প রোব-e-বর্ণ
- মার্চ ২৩, ২০২৫
ক্যাপগ্রাস সিনড্রোম
‘ জীবন মাত্রই সেখানে স্রোত আছে,
ধরাও দ্যায় তা পর্দাতে;
আর স্রোত মানেই স্পন্দন…
এবং তা ধনাত্মক, আবার ঋণাত্মকও।
তবে বিচ্ছুরিত হয় আলো
এই দুইয়েরই ওপর ! ’
সামান্য দূর থেকে এই স্বরচিত কবিতা পাঠ কানে আসায় হারু বুঝে যায়। গজুদার চায়ের ঠেকে আজ গণপতিদার আবির্ভাব ঘটেছে। তার আগমন রোজ ঘটে না। তবে তার উদয় মানেই…। এই ভাবনাটুকুর মধ্যেই হারুকে চোখে পড়ে যায় গণপতি চাটুজ্যের।
“ কীরে হারু এত দেরি কেন ? আমি তো ভাবছিলাম এতদিন বাদে তোদের ঠেকে এলাম। অথচ আজও চা-টিফিন সব নিজের খরচেই করতে হবে !”
“কী যে বলো গণাদা। তুমি কি রোজ আসো নাকি। তাছাড়া তোমার বড়সড় ব্যাপার। আজ দিল্লি। কাল দামাস্কাস। পরশু আবার তুমি দালাসে। কী সব লেকচার ফেকচার দিয়ে বেড়াও ঘুরে ঘুরে! সেই তুমি ঠেকে আসবে। তোমায় কিনা টিফিন করতে হবে তোমার পয়সায়! আমরা কি মরে গেছি নাকি। আসলে হঠাৎ একটা অফিসের কাজ এসে গেল কাল সন্ধেরাতে। সেটা সাল্টাতে সাল্টাতেই প্রায় মাঝরাত। তারপর যথারীতি ঘুম ভাঙতে লেট। তারপর বাজার ইত্যাদি। বুঝতেই তো পারছো।”
“ব্যস। ব্যস। আর লম্বা করতে হবে না কাহিনি। যা বোঝার বুঝে নিয়েছি। কিন্তু বাকি দুটো। লটকা আর শিবু। তাদের দ্যখা নেই যে..।”
কথাটা শেষ হয় না। তার আগেই হারুর চোখে পড়ে—লটকা আর শিবু দাঁত কেলাতে কেলাতে আসছে। আর শিবুর যা স্বভাব। তখনও এসে পৌঁছোয়নি পুরোপুরি। দূর থেকে গণাদাকে দেখতে পেয়েই বলে ওঠে।
“আরে গণাদা যে। এবার একটু বেশিদিন গ্যাপ হয়ে গেল মনে হচ্ছে। তা ভালো যত ব্যবধান তত ফাটানো সব গল্প।”
“ওরে ছাগল। ফাটানো নয় রে। বল অদ্ভুত! ও তার সবগুলোই সত্যি।”
গণপতি চ্যাটার্জির আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ।
“সত্যি না ছাই। সব শালা গাঁজাখুরি। আমাদের মুরগি পেয়েছে। যা ইচ্ছে মনে আসে তাই বানিয়ে বানিয়ে বলে যায়। নেহাত আমাকে চাকরিটা করে দিয়েছে। না হলে শালা গণাদার এই ঢপের বেলুন কবে ফাটিয়ে দিতাম।”
ফিসফিস করে শিবুর কানে কথাগুলো বলে লটকা ওরফে পরিতোষ রায়। ব্যাপারটা হারু খেয়াল না করলেও। লটকার হাবেভাবে কিছু একটা আন্দাজ করে গণাদা। সে তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলে ওঠে, “কীরে লটকা মনে হচ্ছে কীসব মন্তর দিচ্ছিস আমার নামে। খুব লায়েক হয়ে গেছিস না। ভাবছিস এতদিন বলা আমার ঘটনাগুলো সব মিথ্যে। সবই বানানো আমার।”
ধরা পড়ে গিয়ে বোকা হয়ে যায় লটকা। মুখ দিয়ে কোনো কথা সরে না তার। তবু শেষ পর্যন্ত আমতা আমতা করে ম্যানেজ দেওয়ার চেষ্টা করে।
“ না না তুমি ভুল করছো ঘনাদা। আমি তোমার নামে কিছু বলিনি। বলছিলাম যে…”
“হ্যাঁ গো গণাদা। লটকা বলছিল, ‘এবার গণাদার থেকে মনে হয় আরও ইন্টারেস্টিং কিছু পাব।
গণাদারও মেজাজ ঠাণ্ডা হয়েছে এতক্ষণে। তারও পেট ভুটভুট করছে। যতক্ষণ না ঠেকের শিবু হারুদের তার অভিজ্ঞতার ঝুলি উল্টে দিতে পারছে। ততক্ষণ শান্তি নেই তারও। আরে বাবা আজ সে যাইহোক। ইস্কুলের লেখাপড়ার বাইরে এই ঠেকই তো একদিন রাজনীতি থেকে দর্শন। প্রেমে পড়া থেকে প্রেম ভাঙার মলম ছিল নাকি। আর সে তো শুধু গণপতি চ্যাটার্জির একার বেলায় নয়। তার বাবা পরেশ চন্দ্র চ্যাটার্জির বেলাতেও সত্যি। অবশ্য সেদিন গজুদার জায়গায় তার বাবা ভজুদা ছিল এই দোকানের মালিক।
লটকার বাকি কথাটুকু শেষ করে শিবেন। গণাদার সন্দেহ যায় না। তবু অনেক সময় পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণই প্রমাণ। এক্ষেত্রেও তাই ঘটে। স্বয়ং শিবুই যখন বলছে কথাগুলো।
না। এ বিতর্ক আর এগোতে দেওয়া ঠিক না। অবশেষে হাল ধরে হারু। সেই এদের মধ্যে সবচাইতে শিক্ষিত এবং বোঝদার। সে জানে দেখা বা দেখানো। তার সবটাই শেষ সত্য নয়। এসবের বাইরেও কিছু থাকে। তাই আর সময় নষ্ট করতে চায় না হারু। গণাদাকে বলে, “এসব বাজে কথায় কান দিও না তো গণাদা। তুমি বরঞ্চ তোমার গল্প শুরু করো।”
গণাদারও মেজাজ ঠাণ্ডা হয়েছে এতক্ষণে। তারও পেট ভুটভুট করছে। যতক্ষণ না ঠেকের শিবু হারুদের তার অভিজ্ঞতার ঝুলি উল্টে দিতে পারছে। ততক্ষণ শান্তি নেই তারও। আরে বাবা আজ সে যাইহোক। ইস্কুলের লেখাপড়ার বাইরে এই ঠেকই তো একদিন রাজনীতি থেকে দর্শন। প্রেমে পড়া থেকে প্রেম ভাঙার মলম ছিল নাকি। আর সে তো শুধু গণপতি চ্যাটার্জির একার বেলায় নয়। তার বাবা পরেশ চন্দ্র চ্যাটার্জির বেলাতেও সত্যি। অবশ্য সেদিন গজুদার জায়গায় তার বাবা ভজুদা ছিল এই দোকানের মালিক।
এতসব কিছুর ফাঁকে অবশ্য এককাপ করে চা আর দুটো করে লেড়ো বিস্কুট খাওয়া হয়ে গেছে তাদের। হারুর কথা শুনে এবার দুটো পাই বেঞ্চে তুলে নেয় গণাদা। বেশ আয়েশ করে বসে। ফলত একেবারে ধারে বসা লটকার একটা পাছা ঝুলতে থাকে শূন্যে। কী আর করা। কষ্ট না করলে কি আর কেষ্ট মেলে। তাছাড়া ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’ বলেও তো একটা প্রবাদ আছে।
এবার একটা সিগারেট ধরায় গণাদা। পরপর দুটো টান মেরে শুরু করে তার গল্প। তবে গণাদার গল্প বলার একটা বৈশিষ্ট্য আছে। গণাদা কখনও টানা গল্প বলে না। গল্প বলতে বলতে মাঝে মধ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় শ্রোতাদের উদ্দেশে। উত্তর দিতে পারলে ভালো। না পারলেও ক্ষতি নেই। কিন্তু গল্পের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করলেই। গণাদা তখন রেগে আগুন! সেরকম হলে অসমাপ্তই থেকে যায় গল্প। প্রথম প্রথম এই ব্যাপারটা ধরতে পারতো না শিবু, হারু, লটকাদের কেউই। তবে প্রত্যেকেই ঠেকে, এখন শিখে গেছে। আর এই ব্যাপারে তো গণাদারই কথা, “সবপাঠের শ্রেষ্ঠ পাঠ জীবনপাঠ।”
“আজ তোদের আবেগ বা অনুভূতি নিয়ে একটা গল্প শোনাব। তবে তার আগে বলতো, কী করে সম্ভব হয় তা ?”
“কেন! এ তো খুব সোজা। আমদের যে পাঁচটা ইন্দ্রিয়। সেইসব দিয়ে।” শিবুর চটজলদি উত্তর।
“ঠিক। একদম ঠিক। কিন্তু সেটাই কি সব ?”
“মানে! এবার কিন্তু তুমি গুগলি দিলে গণাদা। এর বাইরেও কিছু আছে নাকি?” গণাদাকেই প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয় শিবু।
“আছে বলেই তো বলছি। আর সেই নিয়েই তো আজকের গল্প।”
“কীরকম !” একরাশ বিস্ময় হারুর গলায়।
“উহুঁ বাবা। এসবের বাইরেও কিছু আছে। যেমন ধর হাঙর। সে তার শিকার থেকে বেরিয়ে আসা বিদ্যুতের ব্যাপারটা বুঝতে পারে। একে বলে ইলেকট্রোসেপশন। আবার যদি বলি বাদুড়ের কথা বলি। তাহলে পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্র বোঝার ক্ষমতা আছে তার। আর সেটা ব্যবহার করেই সে দিকনির্ণয় করে। একে বলে ম্যাগনেটোরিসেপশন।”
এই অবধি বলে একটু দম নেয় গণাদা। না। দম নেওয়া মানে সিগারেট ধরানো নয়। ভূমিকাটুকুর পর কীভাবে কাহিনি সাজাবে। তারই বোধহয় একটা ছক কষে নেয় মনে মনে।
“আসলে কী জানিস। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো হল এক একটা গেট ওয়ে। বাদবাকি সবটাই আমাদের নিউরনের বিশাল এক নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা বৈদুতিক সংকেত ও রাসায়নিক অণুর খেলা।”
“মানে!!!”
এই ‘মানে’ উচ্চারণটা শিবুদের সম্মিলিত।
“তবে আর কী বলছি। এবার শোন। একদিন একজন সাইক্রিয়াটিস্টের থেকে নম্বর নিয়ে এক নিউরোজলিস্টের অফিসে একটা ফোন আসে। যিনি ফোন করেছেন তিনি সেই নিউরোলজিস্টকে জানান যে, অত্যন্ত বিপদে পড়ে তিনি তাকে ফোনটি করেছেন। এবং যিনি তাকে তার ফোন নম্বরটি দিয়েছেন। তিনিই বলেছেন, ‘একমাত্র আপনিই এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারবেন।’ নিউরোলজিস্ট বাড়তি কথায় গেলেন না। সরাসরি জানতে চাইলেন বিপদের কথা। উত্তরে যে ভদ্রলোক ফোন করেছেন তিনি বললেন, তার ছেলের বয়স তিরিশ বছর। সে হঠাৎ করে বলতে শুরু করেছে আমি ও তার মা প্রতারক! আমরা দুজনের কেউই নাকি তার আসল বাবা মা নই।”
“মানে! কী বলছো গণাদা !”
শিবুর গলায় বালকদৃষ্টির বিস্ময়! তারপরও কিছু বলতে যাচ্ছিল শিবু। এবার বিপরীত ভূমিকা নেয় লটকা। সে একধমকে চুপ করিয়ে দেয় শিবুকে।
“বাজে বকিস না শিবু। সময় নষ্ট করিস না একদম। জানিস তো গণাদা খুব ব্যস্ত মানুষ। এমনিতেই হাতে কতক্ষণ সময় আছে কে জানে। তাছাড়া এতদিন গণাদা আমাদের যা গল্প শুনিয়েছে তার সবগুলোই একসে বড় কর এক। একেবারে তাক লাগিয়ে দেওয়া যাকে বলে। গণাদা শুরু করো। আর একমিনিট দেরি নয়।”
“হ্যাঁ। কী যেন বলছিলাম…”
“আরে ওই যে গো। তিরিশ বছরের ছেলে তার বাবা মাকে বলছে নকল বাবা মা। বলছে জালিয়াত !” লটকাই উত্তর দেয় তাড়াতাড়ি।
“হ্যাঁ। মনে পড়েছে। টেলিফোনে ঝরে পড়ছে বাবার আন্তরিক আকুতি! তিনি বলছেন ইতিপূর্বে তিনি অনেকের কাছেই গেছেন। কিন্তু কেউই সারিয়ে তুলতে পারেনি ছেলেকে। তিনি যদি…। না আর কথা শেষ করতে পারেন না সেই পিতা ভদ্রলোক। এপারে ফোঁপানোর শব্দ কানে আসে স্নায়ুবিদের।
এর দুদিন পরে সেই ভদ্রলোক এলেন স্নায়ুবিদের চেম্বারে। সঙ্গে ছেলে। ততদিনে অবশ্য স্নায়ুবিদের জানা হয়ে গেছে এক মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল তার সন্তান। গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে সজোরে মাথা ঠুকে গিয়েছিল তার। বাঁচারই আশা ছিল না প্রায়। তিন সপ্তাহ অজ্ঞান ছিল সে। তারপর ধীরে ধীরে জ্ঞান ফেরে। প্রথমদিকে স্মৃতিশক্তি হাঁটাচলা ইত্যাদি নানারকম সমস্যা ছিল। ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্য জায়গায়। এবার ছেলের মনে হল যে দুজন তার সেবা করছে। তারা অবিকল তার বাবা মার মতো দেখতে হলেও নিজের মা বাবা নয়।
এবার ভদ্রলোককে পাশের ঘরে চলে যেতে বললেন স্নায়ুবিদ। তারপর সেই সুদর্শন ও প্রায় শিশুর মতো লাজুক ছেলেটিকে প্রশ্ন করা শুরু করলেন তিনি।
‘ তোমাকে যে এখানে এনেছেন তিনি তোমার কে হন? তোমার বাবা কি ?’
উত্তর আসে— যিনি আমাকে দেখাশোনা করছেন। তাকে বাবার মতো দেখতে বটে। তবে বাবা নন।
‘তবে কে?’
‘সম্ভবত একজন প্রতারক। অবশ্য তিনি যে আমার ক্ষতি চান। তাও নয়।’
হারু লটকা শিবুরা তো বটেই। এমনকি আর বাদবাকি যারা গজুদার চায়ের দোকানে উপস্থিত। তাদের সবারই চোখ ছানাবড়া ! গজুদাও চা বানানো বন্ধ করে সেই গল্প গিলছে। কাহিনি এতটা এগনোর পর। দম নেওয়ার জন্য সামান্য থামে গণাদা। কিন্তু তর সয় না কারও। সবাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষটা জানতে চায়।
‘আরে থামলে কেন গণাদা ? তারপর কী হল বলো।’ স্বয়ং গজুদার উত্তেজিত কণ্ঠস্বর।
হন্হন্ করে হাঁটা লাগায় গণাদা। তবে তার পিছু ছাড়ে না হারু। সেও ততোধিক জোরে গণাদাকে ফলো করে। তারপর প্রায় হাঁফাতে হাঁফাতেই বলে, সবই বুঝলাম গণাদা। কিন্তু তুমি বসে বসে যে স্বরচিত কবিতাটা পাঠ করছিলে। সেখানে বললে ঋণাত্মক স্পন্দন। আবার সেখানেও আলো বিচ্চুরণের কথা। ব্যাপারটা ঠিক বোধগম্য হল না !
কেন মৌসুমী যখন তোকে রিফিউজ করেছিল—সেদিনকার কথা মনে কর। ঠিক বুঝবি ঋণাত্মক স্পন্দন এবং সেখানেও আলো পড়ার কথা। কি ঠিক বললাম কিনা ? গণাদার চোখে দুষ্টু হাসি !
হ্যাঁ। এইসব নিয়ে কথা বলতে বলতে ছেলেটাও বেশ উত্তেজিত। অবশেষে সে বলে যে, তার আসল বাবা মা মিলেই এদেরকে নিয়োগ করেছে শুধু নয়। তাকে এর জন্য টাকাপয়সাও যোগাচ্ছেন তারই বাবা মা।
এবার একটা অস্ত্র প্রয়োগ করেন সেই স্নায়ুবিদ। দু বছর আগে তোলা বাবা মার সঙ্গে ছেলেটার একটা ছবি বার করে দেখান তিনি। সঙ্গে প্রশ্ন করেন, ‘ছবির ছেলেটি কে?’
অদ্ভুত উত্তর আসে ছেলেটির থেকে।
‘দেখতে আমার মতোই বটে। কিন্তু ওই দেখুন ছবির ছেলেটার গোঁফ আছে। আমার নেই।’
স্নায়ুবিদ বোঝেন এটা ছেলেটার যুক্তির ঢাল। এবার একটা আয়নার সামনে ছেলেটাকে দাঁড় করিয়ে তিনি জানতে চান আয়নার মধ্যের মানুষটি কে? এক্ষেত্রে নিজেকে চিনতে অসুবিধে হয় না ছেলেটার। আর তখনই সেই স্নায়ুবিদের মনে পড়ে যায় ছেলেটার মা ও বাবা উভয়েরই দেওয়া একটা তথ্যের কথা। সেটা হল—টেলিফোনে কথা বলার সময় কিন্তু নিজের মা বাবাকে চিনতে তার কোনো অসুবিধে হয় না। এর ফলে ছেলেটার কোনো স্মৃতিভ্রম যে হয়নি। সে ব্যাপারে নিশ্চিত হন স্নায়ুবিদ। তবে যত গণ্ডগোল ওই সামনাসামনি দেখায়।
‘কী বলছো গণাদা ? আমার নিজের কানকেই তো বিশ্বাস করতে পারছি না ! এ তো রূপকথাকেও হার মানাবে।’ আবার মুখ খোলে লটকা।
তা আর বলতে। বিশ্বাস করতে আমারও বেগ পেতে হয়েছিল। এই সমস্যাটা নিউরোলজির এক অন্যতম বিরল সমস্যা। আসলে কি জানিস আপনজনের চেহারা চিনতে আমাদের আবেগের ভূমিকা অপরিহার্য। অ্যাক্সিডেন্ট ঠিক সেই পথটাকেই তছনছ করে দিয়েছিল ছেলেটার।
যাক। আর দেরি করাস না আমার।আজ দুপুরেই আমেরিকান কনসুলেটে যেতে হবে একবার। মিস্টার আর্চারের সঙ্গে অ্যাপয়েনমেন্ট আছে।
কথাটা বলেই দাঁড়িয় পড়ে গণাদা। আর সেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই লটকাকে উদ্দেশ্য করে বলে, শোন তোর প্রমোশনের খবরটা কিন্তু আমার কানে এসেছে। আজ ছেড়ে দিলাম। পরের বার গজুদার দোকানের মাংসের কিমা দেওয়া স্পেশাল ঘুঘনি পাওনা রইল।
কথাগুলোই হন্হন্করে হাঁটা লাগায় গণাদা। তবে তার পিছু ছাড়ে না হারু। সেও ততোধিক জোরে গণাদাকে ফলো করে। তারপর প্রায় হাঁফাতে হাঁফাতেই বলে, “সবই বুঝলাম গণাদা। কিন্তু তুমি বসে বসে যে স্বরচিত কবিতাটা পাঠ করছিলে। সেখানে বললে ঋণাত্মক স্পন্দন। আবার সেখানেও আলো বিচ্চুরণের কথা। ব্যাপারটা ঠিক বোধগম্য হল না !
কেন মৌসুমী যখন তোকে রিফিউজ করেছিল— সেদিনকার কথা মনে কর। ঠিক বুঝবি ঋণাত্মক স্পন্দন এবং সেখানেও আলো পড়ার কথা। কি ঠিক বললাম কিনা ?
গণাদার চোখে দুষ্টু হাসি !
উত্তরে আমতা আমতা করতে থাকে হারু ওরফে অখিলেশ সান্যাল। শেষে একরকম আত্মরক্ষার অস্ত্র হিসেবে বলে, আচ্ছা গণাদা এতক্ষণ তুমি যে গল্পটা শোনালে। সেটার নাম কী ?
ক্যাপগ্রাস সিনড্রোম।
কেন হয়। কী করে হয়। সে নয় আর একদিন বলা যাবে বিস্তারে।
♦–•–♦♦–•–♦♦–•–♦
❤ Support Us








