Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ বৈষয়িক
  • এপ্রিল ৩০, ২০২৬

তেলের দামে আগুন, মার্কিন কড়া নীতির চাপে রেকর্ড পতনে ভারতীয় টাকা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তেলের দামে আগুন, মার্কিন কড়া নীতির চাপে রেকর্ড পতনে ভারতীয় টাকা

বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে ভারতীয় মুদ্রা । বাজারে টাকার দর নেমে দাঁড়ায় প্রতি ডলার ৯৫.২৩২৫, যা আগের সর্বনিম্ন ৯৫.২১ স্তরকেও ছাড়িয়ে গেছে । একদিনেই প্রায় ০.৪% পতন হয়েছে, আর চলতি বছরে এখন পর্যন্ত টাকা ৫%-এরও বেশি দুর্বল হয়েছে — যা গত বছরের পতনের ধারাকেই আরও দীর্ঘায়িত করছে ।

এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি । ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৫.১৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৬%-এরও বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে । বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক  উত্তেজনা এই মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণ । বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধের আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে । পাশাপাশি OPEC এর উৎপাদন নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং মার্কিন তেল মজুত হ্রাস পাওয়াও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

ভারত তার মোট তেল চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে । ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করে । একই সঙ্গে উচ্চ তেলের দাম দেশের মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায়, যার ফলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ।

অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হল মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কড়া নীতিগত অবস্থান । সুদের হার কমার প্রত্যাশা কমে যাওয়ায় ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং মার্কিন বন্ডের রিটার্ন বেড়েছে । এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজারের বদলে মার্কিন সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, যা ভারতের মতো দেশের মুদ্রাকে আরও দুর্বল করে তুলছে ।

টাকার এই অবমূল্যায়ন ভারতের বৈদেশিক খাতের চ্যালেঞ্জগুলোকেও সামনে আনছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনা, বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস এবং জ্বালানি খাতে বাড়তি চাপ — সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে । টাকা দুর্বল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন কমে যায়, ফলে আরও পুঁজি দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে টাকার গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের দাম এবং বৈশ্বিক সুদের হারের পরিস্থিতির ওপর । যদি তেলের দাম উচ্চস্তরে স্থির থাকে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে কড়াকড়ি বজায় থাকে, তবে নিকট ভবিষ্যতেও টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!