Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২৯, ২০২৬

রামমন্দিরের অনুদান চুরি মামলা, জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রামমন্দিরের অনুদান চুরি মামলা, জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান তহবিলে কোটি কোটি টাকার গরমিল ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মামলাটি নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তালিকাভুক্ত হবে। এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালত মনে করছে না।
এ দিন আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, রামমন্দিরের অনুদান এবং মূল্যবান সামগ্রী তদারকিতে গুরুতর অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে আদালত সেই আর্জি গ্রহণ করেনি।
শুনানির সময় বেঞ্চ মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, ‘এমন কিছু হয়নি যে, এখনই শুনানি না হলে আকাশ ভেঙে পড়বে। গ্রীষ্মের ছুটির পর মামলাটি শোনা যেতে পারে। ততদিনে মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়বে না।’ যদিও আদালত আবেদন খারিজ করেনি। স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া মেনেই মামলার শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে।
রামমন্দিরের অনুদান তহবিলের হিসাব নিয়ে গরমিল সামনে আসার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। তদন্তের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর দায়ের করেছে। চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মোট আট জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, রামমন্দিরে জমা পড়া প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার নগদ অনুদান এবং বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়নার একটি বড় অংশের কোনও সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। সিটের তদন্তে অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ঢেকে নগদ অনুদান গণনার সময় টাকা সরানো হত। কখনও সেই টাকা শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হতো, পরে সুযোগ বুঝে বাইরে বের করে নিয়ে যাওয়া হত। এরপর সেই অর্থ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সিটের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে অন্তত ৭০ বার অনুদানের নগদ অর্থ, মূল্যবান রত্ন এবং সোনা-রুপো সরানো হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ধৃতদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হিসাব-বহির্ভূত প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক এবং অনুদান গণনার কাজে যুক্ত টিন্নু যাদব, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প শুক্লা, অবিনাশ শুক্ল, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র ও সুভাষ শ্রীবাস্তব। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন আরও ১৮ জন। তবে তাঁদের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!