Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ২৩, ২০২৫

জাতি-উপজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইন নিয়ে নির্দেশ । কী অভিমত দিল্লি হাইকোর্টের ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জাতি-উপজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইন নিয়ে নির্দেশ । কী অভিমত দিল্লি হাইকোর্টের ?

জমি দখল বা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনও ব্যাঙ্ককে তার বৈধ বন্ধকী অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯ ব্যবহার করা যাবে না। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক বনাম জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশনের মামলায় এমনই রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

দিল্লি হাইকোর্টের এই আদেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় যে, তফসিলি জাতি/‌তফসিলি উপজাতি আইনের উদ্দেশ্য হল সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আর্থিক বা ব্যাঙ্কিং বিরোধে হস্তক্ষেপ করা নয়। এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যাঙ্কগুলিকে স্বস্তি দিল না, বরং আরও স্পষ্ট করে দিল যে, সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সীমা অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

২০১৩ সালে সুন্দেভ অ্যাপ্লায়েন্সেস লিমিটেড অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১৬.৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। এই ঋণের জন্য মহারাষ্ট্রের ভাসাইয়ের একটা সম্পত্তি বন্ধক রেখেছিল সংস্থাটি। কোম্পানির ঋণ খেলাপি হওয়ার পর ব্যাঙ্ক ২০১৭ সালে অ্যাকাউন্টটিকে একটি অকার্যকর সম্পদ (NPA) ঘোষণা করে এবং আর্থিক সম্পদের ‘‌সিকিউরিটাইজেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট অফ সিকিউরিটি ইন্টারেস্ট অ্যাক্ট’‌–র অধীনে তার অধিকার প্রয়োগ করে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে একটা দেওয়ানি বিরোধ দেখা দেয়। এরপর সংস্থাটি বিষয়টি জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশনে নিয়ে যায়।
সংস্থাটির অভিযোগ, ব্যাঙ্ক তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইনের ধারা ৩(১)(এফ) এবং ৩(১)(জি) লঙ্ঘন করে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের একজন সদস্যকে তার জমি দখল করে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইওকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। ব্যাঙ্ক হাইকোর্টে এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছে যে, কমিশনের এই ধরনের বিষয়ে এখতিয়ার নেই, কারণ এটা একটা বাণিজ্যিক লেনদেন এবং জাতিগত নিপীড়নের মামলা নয়।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে যে, কমিশনের পদক্ষেপ তার এখতিয়ারের বাইরে। আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, কমিশন ব্যাঙ্ক কর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে তলব করার জন্য কোনও স্পষ্ট আইনি ভিত্তি বা যুক্তি উপস্থাপন করেনি। হাইকোর্ট বলেছে, ‘‌প্রাথমিকভাবে, আবেদনকারীকে (ব্যাঙ্ক) তার বন্ধকী অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখার জন্য তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা প্রয়োগ করা যাবে না।’‌

বিচারপতি শচীন দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় দিয়েছে যে,‌ প্রাথমিকভাবে, এই মামলায় তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইনের ধারা ৩(১)(এফ) এবং ৩(১)(জি) প্রযোজ্য নয়। আদালত জানিয়েছে, এই ধারাগুলির উদ্দেশ্য ছিল তফসিলি জাতি বা উপজাতির কোনও ব্যক্তির অবৈধ দখল বা উচ্ছেদের অপরাধ রোধ করা, এবং কোনও ব্যাঙ্ককে তার বৈধ আর্থিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখা নয়। এই আদেশের মাধ্যমে, আদালত অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক এবং এর এমডি এবং সিইওর বিরুদ্ধে জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশন কর্তৃক শুরু হওয়া কার্যক্রমের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!