Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ১৬, ২০২৬

কটকের সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! দগ্ধ হয়ে মৃত ১০ জন রোগী, জখম ১১ স্বাস্থ্যকর্মী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কটকের সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! দগ্ধ হয়ে মৃত ১০ জন রোগী, জখম ১১ স্বাস্থ্যকর্মী

ওড়িশার কটকের প্রাচীন ও বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভোররাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। হাসপাতালের আইসিইউ-তে মাঝরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজে নামা ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মীও আগুনে ঝলসে জখম হয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, আইসিইউ–র এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম বা চিকিৎসা সরঞ্জামের শর্ট সার্কিটের কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওড়িশা সরকার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘড়ির কাঁটা তখন রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিট। আচমকাই আইসিইউ-তে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ আতঙ্কে ভরে যায়। ঘুমন্ত রোগী ও কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় ছুটোছুটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আইসিইউ থেকে রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়। তবুও প্রাণহানি এড়ানো যায়নি। ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ২৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের কর্মীরা দমকলে খবর দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘন ধোঁয়া আইসিইউ ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার আগেই ট্রমা ওয়ার্ডে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে ৭ জন রোগী মারা যান এবং পরে আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আরও ৩ জন মারা যান।

ঘটনার খবর পেয়ে ভোর হতেই হাসপাতালে পৌঁছে যান ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মহালিং। তাঁরা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আইসিইউ ও ট্রমা কেয়ার সেন্টারের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন এবং আহত রোগীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‌ওয়ার্ডে ২৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। উদ্ধার অভিযানের আগে প্রথমে ৭ জন ওয়ার্ডের ভেতরেই মারা যান। পরে উদ্ধারের পর ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে আরও ৩ জন মারা যান। এ পর্যন্ত মোট ১০ জন মারা গেছেন।’‌ তিনি আরও বলেন যে ১১ জন চিকিৎসাকর্তা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা আহত অবস্থায় হাসপাতালের একটা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি এত বড়ো হাসপাতালের আইসিইউ-তে কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ওড়িশার স্বাস্থ্য সচিব অশ্বতী এস, কটকের জেলা কালেক্টর দত্তাত্রয় ভাউসাহেব শিন্দে এবং কটকের ডিসিপি ঋষিকেশ খিলারিও হাসপাতালে ছুটে যান এবং উদ্ধার অভিযান তদারকি করেন। আইসিইউ–র এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম বা চিকিৎসা সরঞ্জামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকবাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ণয় এবং অগ্নি নিরাপত্তার সম্ভাব্য ত্রুটি পরীক্ষা করার জন্য একটা উচ্চস্তরের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,  ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পূর্ব ভারতের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম। এই হাসপাতাল ওড়িশার বৃহত্তম রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে কাজ করে, যেখানে রাজ্য এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি থেকে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!