- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৩১, ২০২৬
নালন্দার শীতলা মন্দিরে ভিড়ের চাপে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ! পদপিষ্ট হয়ে মৃত ৮, জখম বহু
বিহারের নালন্দা জেলায় মঙ্গলবার সকালেই ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। শীতলা মন্দির প্রাঙ্গণে পদদলিত হয়ে অন্তত আট জন ভক্তের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। আহতের সংখ্যা কয়েক ডজন ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
ঘটনাটি ঘটেছে দীপনগর থানার অন্তর্গত মাঘরা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে উপচে পড়া ভিড় ছিল। এই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামা নতুন কিছু নয়, কিন্তু এদিন সে ভিড় যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হঠাৎই একসময় ভিড়ের চাপ অসহনীয় হয়ে ওঠে, শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, আর সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক পদদলনের ঘটনা।
প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত ভিড় এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনো পর্যন্ত ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ বা মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার পরপরই তড়িঘড়ি শুরু হয় উদ্ধারকাজ। একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। আহতদের দ্রুত নালন্দার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এ স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, যার মধ্যে এসডিএম-ও ছিলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। মন্দির চত্বর খালি করে দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী।
প্রসঙ্গত, প্রত্যেক মঙ্গলবারই এই শীতলা মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমবেত হন। কিন্তু এদিন চৈত্র মাসের শেষ মঙ্গলবার হওয়ায় হাজার হাজার ভক্ত জড়ো হয়েছিলেন সেখানে, কিন্তু ভিড় সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলেই অভিযোগ উঠছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎই ভিড়ের মধ্যে চাপ বাড়তে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন ভক্তরা। চিৎকার, হুড়োহুড়ি, ঠেলাঠেলির মধ্যে পড়ে বহু মানুষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এদিনের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে। একই দিনে রাজগিরে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা। উচ্চপ্রোফাইল অনুষ্ঠানের কারণে কি নিরাপত্তা বাহিনীর বড়ো অংশ সেদিকে ব্যস্ত ছিল? তার জেরেই কি মন্দিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি? উঠছে এমন প্রশ্নও। রাজনৈতিক দিক থেকেও ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। নালন্দা জেলা দীর্ঘদিন ধরেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-এর রাজনৈতিক কর্মভূমি। জেলারই বাঢ় বিধানসভার হরনৌতের আদি বাসিন্দা তিনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, শীতলা মন্দিরটি তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের অদূরেই অবস্থিত।
ঘটনার পর এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ঘটনার ছবি ও ভিডিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মন্দির চত্বরে মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বহু মহিলা ভক্ত। চত্বর জুড়ে পড়ে আছে জুতো, ফুল, ভাঙা উপাচার আর অসহায় মানুষের আর্তনাদ। এ দৃশ্যই যেন গোটা ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে। প্রশ্ন একটাই, বিপুল জনসমাগমের মধ্যে কেন ছিল না পর্যাপ্ত প্রস্তুতি? উত্তর খুঁজছে প্রশাসন, আর ক্ষতবিক্ষত পরিবারের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে নালন্দার বাতাস।
উল্লেখ্য, সোমবার বিহারের অন্য প্রান্তেও অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছে। লাখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দির চত্বরে ভিড়ের চাপে তৈরি হয় পদদলনের মতো পরিস্থিতি। সেখানে এক ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত আট জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার হওয়ায় ওই মন্দিরেও ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। একসময় ভিড় অস্থির হয়ে ওঠে এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। যদিও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। মৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
❤ Support Us





