Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ১০, ২০২৫

শর্ত মানলে এক টাকায় মিলবে জমি – আলিপুরে চর্ম ও বস্ত্র হাব ‘শিল্পান্ন’-র উদ্বোধনে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শর্ত মানলে এক টাকায় মিলবে জমি – আলিপুরে চর্ম ও বস্ত্র হাব ‘শিল্পান্ন’-র উদ্বোধনে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শিল্প, সংস্কৃতি আর আত্মনির্ভরতার মেলবন্ধনে রাজ্যের শিল্পনীতিতে নতুন সংযোজন ‘শিল্পান্ন’। বৃহস্পতিবার বিকেলে আলিপুর মিউজিয়ামের বিপরীতে নবনির্মিত চর্ম ও বস্ত্র হাব ‘শিল্পান্ন’-এর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এটা আগে প্রেস ছিল, এখন নতুন রূপে শিল্পভবন। বাংলায় কর্মসংস্থানের আর এক ধাপ এগনো হল।’ উদ্বোধনী ভাষণে গুরু পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার কর্মদ্যোগী মানুষকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি লক্ষ্য রাখি কোথায় কী করা যায়। এই জায়গাটা ফাঁকা পড়ে ছিল, ভাবলাম কিছু একটা করা দরকার।’ ‘শিল্পান্ন’-এর মাধ্যমে রাজ্যের চর্ম ও তাঁতশিল্পে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠী, শিল্পী ও কারিগররা একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম পেলেন বলে জানান তিনি।

শিল্পান্নে কী থাকছে? ৪৬টি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্টল নিয়ে গড়ে ওঠা এই হাবে থাকবে বাংলার চামড়ার সামগ্রী, শাড়ি, হস্তশিল্পের নানা নিদর্শন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘বিদেশে মেয়েরা বাংলার চামড়ার ব্যাগ কিনতে চায়। আমরা এক নম্বর, অথচ সেগুলোর গায়ে অন্য কোম্পানির স্ট্যাম্প পড়ে দাম হয় ৪০ হাজার। এখানে পাবেন ৩ হাজারে।’ শাড়ির কথা বলতে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে জানান, ‘আদি ঢাকেশ্বরী, বসাক, মোহিনী মোহন—সব থাকছে এখানে। ৩০০ টাকা থেকে শুরু শাড়ির দাম। বাংলার শাড়ির ২১টা আউটলেট হয়েছে দেশজুড়ে।’ ‘শিল্পান্ন’-এ যেমন থাকছে নামী হস্তশিল্প, তেমনই থাকছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী বিপণি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘প্রত্যেক জেলায় শপিং মল তৈরি করছি। এক টাকায় জমি দেব। শর্ত একটাই— দুটো ফ্লোর আমাদের চাই। যেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা নিজেদের হাতে তৈরি জিনিস বিক্রি করতে পারবেন।’ তিনি জানান, বিভিন্ন জেলায় গড়ে ওঠা এই মলগুলিতেই রাজ্যের মহিলারা খেলনা, মিষ্টি, পোশাক, এমনকি অ্যামাজনে যে সব পণ্য অর্ডার করেন, সেগুলিও সহজে পেয়ে যাবেন।

আলিপুর কারাগারের প্রাক্তন আবাসিকদের তৈরি পণ্য নিয়ে নতুন উদ্যোগ ‘অভিন্ন’-এর কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘চিড়ে, মুড়ি, ডাল, বড়ি—সবই ওঁরা তৈরি করছেন। আমি কিনলাম সেসব। মুক্তির পরে এই মানুষগুলোর জীবনে নতুন পথ খুলে যাবে।’ পাশাপাশি জানালেন, আলিপুর জেল এখন মিউজিয়াম। সাততলা ক্যাম্প অফিসও উদ্বোধন হয়েছে। রাজ্যের উচ্চপদস্থ আমলারা থাকবেন সেখানে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘বাংলা এখন চর্মশিল্পে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ভারতের মধ্যে এক নম্বরে। রাজ্যে তৈরি হয়েছে ৬৬০টি এমএসএমই ক্লাস্টার। কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। শুধুমাত্র সরকারি স্কুলে বছরে ৫ কোটি মিটার কাপড় ব্যবহার হয়—সবই এখন রাজ্যের তাঁতিরা তৈরি করেন। ৩২০০ তাঁতি যুক্ত হয়েছেন এই প্রকল্পে।’ ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। জানান, গত এক বছরে শিল্পীরা শত কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে।

এ দিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন শশী পাঁজা, হিটকোর দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, শিল্পপতি রুদ্র চট্টোপাধ্যায় এবং শিক্ষাজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সত্যম রায়চৌধুরী। তাঁদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির নানা উদ্যোগের ছাপ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।’ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিয়ে বার্তা দিতেও ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘শরীরচর্চা না করলে চলবে না। ব্যায়াম করুন, সুস্থ থাকুন।’ রাজনৈতিক ব্যাখ্যাই হোক বা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ, মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ যে শুধু একটি হাবের উদ্বোধন নয়—তা বলছেন প্রশাসনিক মহলও। তাঁদের মতে, কর্মসংস্থান, নারীশক্তির ক্ষমতায়ন এবং বাংলার নিজস্ব পণ্যকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার এই প্রয়াস রাজ্যের শিল্পনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় রচনা করবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!