- প্রচ্ছদ রচনা স | হ | জ | পা | ঠ
- জুলাই ১৫, ২০২৫
মহাকাশ থেকে প্রশান্তে অবতরণ ! ব্যোমযাত্রার ১৮ দিন পর নিরাপদে ধরায় ফিরলেন টিম শুক্লা
দুর্দান্ত মহাকাশযাত্রার শেষে, প্রশান্ত মহাসাগরে ‘গ্রেস’-এর জলছোঁয়া। স্পেসএক্স-এর ড্রাগন মহাকাশযান যখন ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে নিখুঁতভাবে নামল, তখন শুধুই এক প্রযুক্তিগত সাফল্যের মুহূর্ত নয়, বরং ভারতের মহাকাশ অভিযানে এক নতুন ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ। পৃথিবীতে ফিরলেন প্রথম ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশচারী, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। প্রায় ১৮ দিনের দীর্ঘ মহাকাশ অভিযানের শেষে, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা তাঁর ৩ সঙ্গীকে নিয়ে, ভারতীয় সময় মঙ্গলবার, বিকেল ৩টে ১ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে নামল স্পেসএক্সের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়াগো উপকূলে তখন গভীর রাত। ঐতিহাসিক স্প্ল্যাশডাউনের মুহূর্তটি শেয়ার করা হয়েছে স্পেসএক্স-এর এক্স হ্যান্ডলে।
Watch Dragon and Ax-4 return to Earth https://t.co/n97iYzRQv5
— SpaceX (@SpaceX) July 15, 2025
২৫ জুন ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পরে, ২৬ জুন সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পৌঁছেছিল ড্রাগন। এরপর টানা আঠারো দিন গবেষণা, পরীক্ষানিরীক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত ছিলেন শুভাংশু ও তাঁর সহযাত্রী তিন মহাকাশচারী। সোমবার সন্ধ্যায় ড্রাগনের ‘নোজকোন’ বন্ধ করে পুনঃপ্রবেশের প্রস্তুতি শুরু হয়। যে মুহূর্তে মহাকাশযানটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে— শুরু হয় প্রবল তাপ এবং ঘর্ষণের পরীক্ষা। তখন ড্রাগনের গতি ছিল প্রায় ২৮,০০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা, যা ধীরে ধীরে কমে দাঁড়ায় ঘণ্টায় ২৪ কিলোমিটারে। একে একে খুলে যায় চারটি বিশাল প্যারাশ্যুট। তারপর ভাসতে ভাসতে প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলে নামে ‘ড্রাগন’। মহাকাশযান নামার পর আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল উদ্ধারকারী জাহাজ। ‘ড্রাগন’-কে জল থেকে তুলে আনা হয় সেই জাহাজে। এরপর ক্যাপসুলের হ্যাচ খুলে একে একে বের করে আনা হয় শুভাংশু এবং তাঁর সহযাত্রী পেগি হুইটসন, স্লাওস উজানস্কি-উইজ়নিউস্কি এবং টিবর কাপুকে। তবে এখানেই শেষ নয়— এবার শুরু হয়েছে আরও এক নতুন অধ্যায়। কারণ, এতদিন মহাশূন্যে ভেসে থাকায় শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে। ফলে এখন ৪ নভশ্চরের জন্য অপেক্ষা করছে একাধিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ। আগামী ৭ দিন তাঁদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যাতে শরীর ধীরে ধীরে পৃথিবীর পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে।
এএক্স-৪ মিশনে ছিলেন চার মহাকাশচারী— নাসার প্রাক্তন মহাকাশচারী পেগি হুইটসন, ইসরোর তরফে ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা, ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির স্লাওসজ উজনস্কি, এবং হাঙ্গেরির তিবোর কাপু। তাঁদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল স্পেসএক্সের নতুন মহাকাশযান ‘গ্রেস’। নাসা জানিয়েছে, অভিযানের সময় ৬০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি হয়েছে। ড্রাগন ফিরে এসেছে প্রায় ৫৮০ পাউন্ড তথ্য ও যন্ত্রপাতি নিয়ে। শুভাংশুর এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগে ভেসেছে তাঁর শহর লখনৌ। তাঁর বাবা শম্ভুদয়াল শুক্ল ও মা আশা শুক্ল জানিয়েছেন, ‘ছেলের এই কৃতিত্বে আমরা গর্বিত। সে আজ দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’
১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা যখন সোভিয়েত মহাকাশযানে চড়ে গিয়েছিলেন, তখন ভারত ছিল দর্শক। এবার শুভাংশু শুক্লা আন্তর্জাতিক বেসরকারি মিশনের অংশ হিসেবে সরাসরি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন এক নতুন বার্তা— ভারত এখন বিশ্ব মহাকাশ মানচিত্রে এক সক্রিয় খেলোয়াড়। পাশাপাশি, শুভাংশু শুক্লা হলেন প্রথম ভারতীয় যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে গিয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন। এ অভিযান শুধু এক সফল মহাকাশযাত্রা নয়, বরং ভারত-আমেরিকা মহাকাশ সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়ও। যৌথ উদ্যোগের এই মিশন একাধিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। বায়ুসেনার এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘শুক্লার সফল মিশন আগামী প্রজন্মকে মহাকাশের দিকে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে।’ মহাকাশের নিঃসীম শূন্য থেকে ফিরে আসা এক ভারতীয়ের সাহসিকতা, প্রতিশ্রুতি আর পরিশ্রমের সাক্ষী রইল আজ গোটা দেশ। এ যাত্রা ভারতীয়দের আত্মবিশ্বাসের, দেশের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার। আজ থেকেই নতুন এক ভবিষ্যতের সূচনা হলো।
I join the nation in welcoming Group Captain Shubhanshu Shukla as he returns to Earth from his historic mission to Space. As India’s first astronaut to have visited International Space Station, he has inspired a billion dreams through his dedication, courage and pioneering…
— Narendra Modi (@narendramodi) July 15, 2025
❤ Support Us







