- এই মুহূর্তে বৈষয়িক
- মার্চ ১১, ২০২৩
সিলিকনে সংকট ! দেড় দশক পর আবার আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব শেয়ার বাজার, আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের
চিত্র : সংবাদ সংস্থা
আর্থিক সংকটের জেরে বন্ধ হল আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্ক। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যাঙ্কিং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ করে দেয়। সেই সঙ্গে তার যাবতীয় জমা টাকার দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছে নিয়ামক সংস্থা। ওঁর ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর খুচরো ব্যাংকিং খাতে এত বড়ো সংকট এই প্রথম। অবশ্য এর আগেই প্রি মার্কেটে ট্রেডিং শুরুর পর ৬৬ শতাংশ শেয়ারের দর নেমে গেলে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০৯ বিলিয়ন ডলার। এর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৭৫.৪ বিলিয়ন ডলার। সংবাদ সংস্থার খবর, ১৩ মার্চ আবার ব্যাঙ্ক খুলবে। গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয় খাত থেকে সেদিন টাকা তুলে নিতে পারবেন। জানা যাচ্ছে স্টার্ট আপ কেন্দ্রিক এই ব্যাংকটির ম্যাসাচুসেটস ও ক্যালিফর্নিয়ায় ১৭ টি শাখা রয়েছে।
সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্ক মূলত স্টার্ট আপের জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্থ সরবরাহ করে থাকে। গত বছর মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে ফেডেরাল রিজার্ভ সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। তাই ব্যাঙ্ক যে বণ্ড মারফত ঋণ দিত তাঁর গ্রহক সংখ্যা কমে যায়। অন্য দিকে, ব্যাংকের আর্থিক সংকটের গুজবে কান দিয়ে একদল গ্রাহক তাঁর জমা টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নিতে থাকেন। কোভিড অতিমারি শুরু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছিল এ প্রবণতা। তাই গভীর সমস্যায় পড়ে ব্যাঙ্ক। বন্ধ হওয়ার আগে সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকের সম্পদের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২ বিলিয়ন ডলার। এফডিআই সি অবশ্য জানাচ্ছে নতুন ব্যাংক সাণ্টা ক্লারার সঙ্গে ব্যাঙ্কে যুক্ত করে ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনের কাজ সচল রাখা হবে। বাইডেন প্রশাসনও এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।ধনকুবের এলন মাস্ক অবশ্য এই সংস্থাকে কিনে নিয়ে একে একটি ডিজিটাল রূপ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সে প্রক্রিয়া কবে শুর হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয়ের প্রভাব সমগ্র বিশ্বেই দেখা যাচ্ছে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। এ খবর আসার পর ব্যাঙ্কিং খাতের বেঞ্চমার্ক স্টক ইনডেক্স হঠাৎ করে ৮.১ শতাংশ কমে যায়। এই পতন গত তিন বছরের মধ্যে একদিনে সবচেয়ে বড় পতন। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারেও। শুক্রবার ভারতীয় শেয়ার বাজারও রেড জোনে বন্ধ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হওয়ার প্রভাব আগামী কয়েকদিন সারা বিশ্বের শেয়ার বাজারকেই নেতিবাচক ভাবে ধরে রাখতে পারে। ২০০৮ সালের পর সারা বিশ্বজুড়ে আবার মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
❤ Support Us








