- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫
রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে লাদাখে ফের অনশন শুরু ওয়াংচুকের
আবার অনশন শুরু করলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনার দাবিতে বুধবার লেহ-তে ৩৫ দিনের ‘উপবাস’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে অনশনে সামিল হয়েছেন ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’র ১৪ জন সদস্য।
গত কয়েক মাসে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়াতেই এমন কঠোর পদক্ষেপ বলে দাবি ওয়াংচুকের। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘গত দুই মাসে কোনো আলোচনার প্রস্তাব দেয়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অথচ আলোচনার পরবর্তী ধাপে আমাদের মূল দাবি— রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিল নিয়ে কথা হওয়ার কথা ছিল। এখন মনে হচ্ছে কেন্দ্র সরকারের মনোভাব বদলে গিয়েছে এবং এই কারণেই তাদের শান্তিপূর্ণ ও অহিংস অনশনের পথ বেছে নিতে হয়েছে।’ অনশন শুরু করবার আগে সকল আন্দোলনকারীরা এক সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বললেন, ‘লাদাখের পরিচয় রক্ষা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সকলের দায়িত্ব। সংস্কৃতি ও ভূমি আমাদের, প্রকৃতি আমাদের, আমাদের অধিকারও আমাদের।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে দিয়ে রাজ্যটিকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে কেন্দ্র। এ সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জন্মায় লাদাখবাসীদের অন্তরে। রাজ্যের নিজস্ব আইনসভা না থাকায় জমি, জল, চাকরি ও সংস্কৃতি রক্ষা নিয়ে বাড়ছে আশঙ্কা। প্রশ্ন উঠেছে, কোনো সাংবিধানিক সুরক্ষা ছাড়া আদৌ কি টিকে থাকবে লাদাখের স্বাতন্ত্র্য? সে ক্ষোভেই বহিঃপ্রকাশেই বিগত কয়েক বছর ধরে একাধিক বিক্ষোভ, পদযাত্রা ও অনশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওয়াংচুক। সম্প্রতি, তিনি অভিযোগ করেন, ‘চাংথাংয়ের গরু চরানোর মাঠ হাজার হাজার একর জমি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিচ্ছে সরকার। আমাদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।’ ২০২০ সালের লেহ হিল কাউন্সিল নির্বাচনের সময় বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে স্পষ্ট বলেছিল, লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সে প্রতিশ্রুতি এখনো অধরা। আর তাই আসন্ন হিল কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াতেই এই অনশন কর্মসূচি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সম্প্রতি লাদাখবাসীদের জন্য ডোমিসাইল ও চাকরিতে সংরক্ষণ-নীতি চালু করেছে কেন্দ্র। তবে ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’-সহ স্থানীয় নেতৃত্ব একে বলছেন ‘প্রথম ধাপ মাত্র’। কেন্দ্রের এই ‘অবহেলা’র প্রতিবাদেই গত বছর সেপ্টেম্বরেও ১০০ জন লাদাখি নিয়ে ২০ দিন ধরে ১০০০ কিমি হাঁটলেন ওয়াংচুক—লে থেকে দিল্লি। দিল্লিতে পৌঁছেই ধরপাকড়। তবু পিছু হটেননি। অনশন চালিয়েছিলেন টানা ১৬ দিন। আবারও ওই পথে হেঁটেই আবার দাবি তুললেন তিনি—‘এ দেশে গণতন্ত্র আজ ঠাট্টায় পরিণত হয়েছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু রক্ষা করা হয় না। রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিল কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।’ কী বলছে ষষ্ঠ তফসিল? সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উপজাতি অঞ্চলের জন্য জমি, সংস্কৃতি ও শাসনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা ও স্বায়ত্তশাসনের বিধান রয়েছে। লাদাখের ৯৭ শতাংশ মানুষ তফসিলি উপজাতিভুক্ত। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে এত বড়ো অংশ আদিবাসী সপ্রদায়ের মানুষ, সেখানকার সাংবিধানিক সুরক্ষা এতদিনেও কেন কার্যকর হল না?
এখানেই শেষ নয়। ওয়াংচুক আরও অভিযোগ করেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অলটারনেটিভস, লাদাখ’-এর জমি ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে পাঠানো হয়েছে সিবিআই ও আয়কর দফতরের নোটিস। তাঁর কথায়, ‘এই সবই চাপ তৈরি করার কৌশল। কিন্তু আমরা ভয় পাই না।’ লাদাখবাসীর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন যিনি, তাঁর উপর এমন ‘প্রশাসনিক প্রতিহিংসা’র অভিযোগে উদ্বিগ্ন স্থানীয় মহল। তবে রাজনৈতিক স্তরে এখনও পর্যন্ত নীরব কেন্দ্র। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লেহ-তে শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে ওয়াংচুক ও অনান্য অনশনকারীদের কর্মসূচি।
❤ Support Us







