- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৮, ২০২৫
নভেম্বরের শুরুতেই এসএসসির ফল প্রকাশ!
নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের তোড়জোড় শুরু করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফলপ্রকাশের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার জানিয়েছেন, কমিশনের তরফে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সময়মতো ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
গত ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর দুই ধাপে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার। এর মধ্যে ৩১ হাজার চাকরিপ্রার্থী এসেছিলেন ভিন রাজ্য থেকে। কমিশনের দাবি, কোনোরকম গোলমাল বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই কমিশন মডেল উত্তরপত্র প্রকাশ করে দেয়। উত্তরপত্র নিয়ে কিছু প্রার্থী আপত্তিও জানান। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, মোট ৫ শতাধিক চ্যালেঞ্জ আবেদন জমা পড়েছে। প্রার্থীরা উত্তর নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সবমিলিয়ে মোট ৫৩৪টি প্রশ্নের উত্তর ঘিরে আপত্তি জমা পড়ে। এসএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আপত্তিগুলি যাচাই-বাছাইয়ে নিযুক্ত রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি চ্যালেঞ্জ খুঁটিয়ে দেখে তার সত্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে। কমিশনের পরিকল্পনা, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই যাচাই করা সঠিক উত্তরপত্র প্রকাশ করে দেওয়া হবে। সংশোধিত উত্তরপত্র প্রকাশের পরই ফলপ্রকাশের কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে জানা গিয়েছে।
এসএসসির নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিল করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারান ২৫ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। আদালতের রায়ে স্পষ্ট জানানো হয়, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে হবে, তবে ‘অযোগ্য’ হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। সে নির্দেশ মেনে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এসএসসি এবং সেই মতো আয়োজনও করা হয়। এসএসসি সূত্রের খবর, কমিশনের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বরো চ্যালেঞ্জ হলো স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই প্রতিটি ধাপ এগোচ্ছে কমিশন। নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে অভিযোগ, আদালত-মামলা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর চলেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রকাশ করতে চায় কমিশন। ফল প্রকাশের পরে যাতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়, সেই দিকেও নজর রাখছে এসএসসি। যাতে চাকরিপ্রার্থীরা আর অনিশ্চয়তায় না ভোগেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্পষ্টতা আসে। চাকরি পরীক্ষার নিছক ফল প্রকাশ নয়— বরং শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা ফেরানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী একসঙ্গে পরীক্ষায় বসেছিলেন। এবার তাঁদের সবার নজর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। নতুন করে আশার আলো দেখছেন বহু পরীক্ষার্থী।
❤ Support Us





