- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫
শিল্পে গতি, স্বাস্থ্যে নজর, জমি বরাদ্দ, ঢেলে সাজানো প্রশাসন — মন্ত্রিসভায় বৈঠকে কর্মসংস্থানের ঢল, ১৮টি নতুন পদে সিলমোহর
বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌরোহিত্যে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে একের পর এক বড়োসড়ো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার থেকে শুরু করে জমি ব্যবহারের নতুন নীতি, শিল্প ও পর্যটন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই বাংলা নতুন দিগন্তে পা রাখছে। বিধানসভা অধিবেশনের পর মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, তা রাজ্যের অর্থনীতি ও জনসেবার ক্ষেত্রগুলোতে ব্যপক প্রভাব ফেলবে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
জানা যাচ্ছে, হাওড়ার লিলুয়ায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও লজিস্টিক পার্ক গড়ার জন্য ফ্রি হোল্ড জমি অনুমোদন, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে লিজ ও ফ্রি হোল্ড জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত ছিল মন্ত্রিসভার অন্যতম আলোচিত বিষয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আবাসিক ব্যবহারের জমিও ফ্রি হোল্ডের আওতায় আনা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় হোটেল ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য হিডকোকে জমি বরাদ্দ, আর হুগলির পোলবায় টেকনোম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফ্যাক্টরির জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্তও মন্ত্রিসভার টেবিলে স্থান পেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই জমি বরাদ্দ আর শিল্প বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন অক্সিজেন জোগাতে পারে।
পাশাপাশি, ৪০ বছর বয়স পেরানো ডব্লিউবিসিএস এবং ডব্লিউবিপিএস কর্তাদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিষেবায় কর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করতেই এ উদ্যোগ। পাশাপাশি, রাজ্যের ১১টি মেডিকেল কলেজে নার্সিং স্টাফের ব্যাপক নিয়োগের প্রস্তাব পাশ হওয়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়িতে রাজবংশী ও কামতাপুরি ভাষায় প্রাথমিক বিদ্যালয় চালুর সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হয়েছে। ১২ জন প্যারা-টিচার নিয়োগের মধ্য থেকে রাজবংশী মাধ্যমের জন্য ২ জন, কামতাপুরি মাধ্যমের জন্য ১০ জন প্যারা-টিচার নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে ১৮টি নতুন উচ্চপদ সৃষ্টির প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। মৎস্য দফতরে অর্থ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক, নারী ও শিশু কল্যাণে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা , অর্থ দফতরে প্রযুক্তিগত উপ সচিব এবং রাজভবনে দুইজন ওএসডি পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে থাকা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরেও একাধিক নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যদিও ঠিক কতগুলি পদ তৈরি হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। সরকারের দাবি, এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো আরো গঠনমূলক ও সক্রিয় হবে।
দুর্গাপূজাকে ‘অমূর্ত ঐতিহ্য’ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘দূর্গা অঙ্গন’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ইউনেস্কোর-র স্বীকৃত বাংলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং পর্যটনকে উৎসাহিত করতে একটি ট্রাস্ট গঠন ও উন্নয়নকাজ শুরু হবে। চা বাগানে পর্যটন প্রসারে অনুমতি দিয়ে মমতা সরকার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দুই দিকেই ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে। চা উৎপাদনে বাধা না দিয়ে ১৫ শতাংশ জমিতে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে, যেখানে ৮০ শতাংশ কর্মী স্থানীয়দের রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, পর্যটন—সবক্ষেত্রেই জনকল্যাণমুখী নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলা আজ এগিয়ে চলছে। মন্ত্রিসভার একগুচ্ছ নয়া উদ্যোগের ফলে আগামীদিনে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
❤ Support Us








