Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৬

রাজধানীতে ‘সিজেপি’-র বিক্ষোভের আগে মেট্রো-রেল চালু রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজধানীতে ‘সিজেপি’-র বিক্ষোভের আগে মেট্রো-রেল চালু রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে জনজীবনকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না। দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র কর্মসূচিকে ঘিরে মেট্রো ও রেল পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে শুক্রবার এ বার্তাই দিল সুপ্রিম কোর্ট। শনিবার, ১০ অক্টোবর রাজধানীর যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘সিজেপি’। তার আগে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ করার প্রস্তাব ও একাধিক ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারীরা। শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথই বন্ধ করে দিতে হবে।  

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিষেবা চালু রাখার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মেট্রো চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিষেবা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, মেট্রো ও রেল পরিষেবা নিয়ে আরোপিত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা হলেও সাধারণ মানুষের অসুবিধা যাতে অপ্রয়োজনীয় ভাবে না বাড়ে, তা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। তাঁর এই আশ্বাসের পরেই বেঞ্চ জানায়, মেট্রো চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত নয়।

শুধু মেট্রো ও রেল পরিষেবা চালু রাখাই নয়, সংশোধিত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আগাম অবহিত করার উপরেও জোর দিয়েছে আদালত। মেট্রো ও রেলের পরিষেবা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ব্যাপক ভাবে প্রচার করতে হবে, যাতে যাত্রীরা নিজেদের যাতায়াতের পরিকল্পনা করতে পারেন। দিল্লির রাস্তায় যান চলাচল নিয়েও একই ধরনের জনবিজ্ঞপ্তি জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার উপর ব্যারিকেড বসানোর ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করে বিকল্প পথ চিহ্নিত করতে হবে এবং সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী মানুষ, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কিংবা নিত্যযাত্রীরা যাতে অকারণে দুর্ভোগে না পড়েন, সেটিও প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন। কোনো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জমায়েতের আশঙ্কা থাকলেই গণপরিবহণের উপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা চাপানো যুক্তিসঙ্গত কি না, সে প্রশ্নই কার্যত সামনে এসেছে শুনানিতে।

‘সিজেপি’-র বিক্ষোভের অন্যতম দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি। সে অভিযোগের প্রতিবাদেই যন্তরমন্তরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচলের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভস্থল নিয়েও পৃথক পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তরের পরিবর্তে অন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করা যায় কি না, তা বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছে বেঞ্চ। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কর্তৃপক্ষ এই পরামর্শ বিবেচনা করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

আদালতের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, এমন অন্য কোনো জায়গা চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট করার সময় এসেছে। অর্থাৎ, একদিকে যেমন প্রতিবাদের অধিকার ও জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই বিক্ষোভের জন্য আরও উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও সামনে এনেছে শীর্ষ আদালত। শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রেল কর্তৃপক্ষ কয়েকটি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করেছে। সকাল ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল, এমন ট্রেনগুলির ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের যুক্তি, ওই দুই স্টেশনের আশপাশে যানজট আর যাত্রীদের ভিড় বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য জমায়েত নিয়ন্ত্রণের জন্য দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল পুলিশ। এই পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।  

আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে গণপরিবহণের উপর ব্যাপক বিধিনিষেধ চাপালে তার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের উপর। যাঁদের বিক্ষোভের সঙ্গে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, তাঁদেরও কর্মস্থলে পৌঁছতে, বাড়ি ফিরতে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এই ধরনের বিধিনিষেধ পরিস্থিতির তুলনায় অতিরিক্ত কঠোর হয়ে উঠতে পারে বলেও আদালতে সওয়াল করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের নির্দেশে সে উদ্বেগই গুরুত্ব পেয়েছে। আদালত এক দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে, অন্যদিকে মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ফলে জনজীবনের স্বাভাবিক গতি সম্পূর্ণ থমকে যাওয়া কাম্য নয়। শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও পরিবহণের ব্যবস্থা কী ভাবে কার্যকর করা হয়, এখন নজর সে দিকেই।  

রেল-মেট্রো বন্ধের সিদ্ধান্তে সরব ‘সিজেপি’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেছেন, ‘দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিলেই যদি ট্রেন বাতিল করতে হয়, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার কথা ভাবতে হয়, তা হলে যুবসমাজকে ভয় পাওয়ার বদলে গোটা দেশই বন্ধ করে দেওয়া হোক!’ বিক্ষোভ করার অনুমতি নিয়েও দিল্লি পুলিশকে আক্রমণ করে দীপকে প্রশ্ন তুলেছেন, যন্তরমন্তর যখন বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা, তখন সেখানে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে কেন? তাঁর দাবি, বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা তরুণদের যাতায়াত সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ‘আম আদমি পার্টি’ (আপ)-র জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরীওয়াল। শুক্রবার তিনি জানান, শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবারের সদস্যেরাও ওই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। অন্যদিকে, আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিক্ষোভের আয়োজক সিজেপি। আপ-সহ অন্য বিরোধী দলগুলি তাতে অংশ নেবে। যন্তর মন্তরে বিপুল সংখ্যায় জমায়েত হওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন কেজরীওয়াল। তাঁর বক্তব্য, এই কর্মসূচি কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন কেজরীওয়ালও। তাঁর অভিযোগ, ‘যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন না, তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভুয়ো ভোট যোগ করা হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারের আমলে এই সব কিছু প্রকাশ্যেই চলছিল। গোটা দেশ তাঁর পদত্যাগ দাবি করছে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!