- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৩০, ২০২৫
ডিজিটাল পরিষেবা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, প্রয়োজনে নিতে হবে বিশেষ ব্যবস্থা।নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং অ্যাসিড আক্রমণের শিকারদের জন্য কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আবেদনের শুনানিতে, দেশের সকল মানুষের ডিজিটাল অ্যাক্সেস নিয়ে উল্লেখযোগ্য রায় দিয়েছেন বিচারপতি আর. মহাদেবন ও বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালার বেঞ্চ।
দেশের সকল মানুষের ডিজিটাল পরিষেবার আওতাভূক্ত করার প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রায় দিয়েছেন বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ। রায়ে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সময়ে দেশের সকল নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। তাই রাজ্যগুলিকে সব নাগরিক, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের এবং সমাজের প্রান্তিক অংশের মানুষের জন্য ডিজিটাল প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’ এদিন ২ টি ভিন্ন জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়েছে। জনস্বার্থ মামলাকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন এক মহিলা, যিনি অ্যাসিড আক্রমণের শিকার। তাঁর অভিযোগ, তিনি ব্যাঙ্ককে কেওয়াইসি প্রক্রিয়া চলাকালীন নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আদালতের সামনে তিনি সেগুলি বিশদে বর্ণনা করেছেন। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ডিজিটাল বিভাজন কমানো এখন আর নীতি বিষয়ক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার। নাগরিকদের মর্যদা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে হবে।’
আদালত জানিয়েছে, ‘দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল প্রবেশাধিকার ও স্বাধীনতার অধিকার এখন স্বতন্ত্র একটি বিষয়। ফলে প্রতিটা রাজ্যকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। যা শুধুমাত্র সুবিধাভোগীদের জন্য নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত প্রান্তিক জনগণের জন্যও নিশ্চিত করতে হবে।’ শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সেবা এখন অনেকাংশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে বহু প্রান্তিক মানুষই সেগুলি ব্যবহারের সুযোগ পান না। সংবিধানের ২১ আর্টিকেলের ধারা, যাতে ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার সুনিশ্চিত করে তার প্রেক্ষিতেই আদালত এই রায় দিয়েছে। বিচারপতিরা প্রতিটা রাজ্যর জন্য ২০টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে কেওয়াইসি প্রক্রিয়া আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজ-সরল করবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন আদালত, অ্যাসিড আক্রমণের শিকার মহিলার জনস্বার্থ মামলায়, আবেদনকারী অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে জুলাই মাসে তিনি একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলবার চেষ্টা করেন। কিন্তু চোখে, মুখে অ্যাসিড হামলার কারণে ভয়াবহ ‘বিকৃতি’র কারণে, তিনি ডিজিটাল কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে পারেননি। ব্যাঙ্কদের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, তাদের একটি লাইভ ছবি প্রয়োজন, যেখানে আবেদনকারীকে চোখের পাতা বন্ধ করতে হবে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার গাইডলাইন অনুযায়ী, কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় গ্রাহককে জীবিত প্রমাণ করার জন্য চোখ খোলা-বন্ধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের পর ওই ব্যাঙ্কটি আবেদনকারীর জন্য ব্যতিক্রমীভাবে অ্যাকাউন্ট খোলবার অনুমতি দিয়েছিল। আবেদনকারী প্রজ্ঞা প্রসূন কোর্টে বলেলেন, ‘অনেক অ্যাসিড আক্রমণের শিকার ব্যক্তিরা প্রতিদিন এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। তিনি কেন্দ্র সরকারকে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, যাতে তাঁরা কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।’
আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে বিচারপতি মহাদেবন রায় দেন, ‘আমরা বলেছি যে, বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষদের জন্য কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রয়োজন। আমরা রাজ্যগুলিকে ২০টি নির্দেশনা দিয়েছি। যারা অ্যাসিড আক্রমণ বা অন্ধত্বের শিকার, যা যারা মুখমণ্ডল ‘বিকৃতি’র কারণে কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি… সাংবিধানিক বিধানের প্রয়োগে তাঁদের এই অধিকার রয়েছে যাতে ভিন্নভাবে তাঁদের এই প্রক্রিয়া করানো হয়। এই নির্দেশ ব্যাঙ্কসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে মানতে হবে। পাশাপাশি, দ্রুত ডিজিটাল কেওয়াইসি গাইডলাইনগুলির অ্যাক্সেসিবিলিটি কোড সহ সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক যুগে যেখানে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধাগুলি ডিজিটাল মাধ্যমে হয়, সেখানে নাগরিকদের কেউ তা থেকে বঞ্চিত থাকবেন তা অন্যায়। সংবিধানের আর্টিকেল ২১-কে প্রযুক্তিগত বাস্তবতার আলোকে পুনরায় ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ডিজিটাল বিভাজন যাতে না বাড়ে তা দেখা প্রয়োজন।’
❤ Support Us





