Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ২৮, ২০২৬

ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগে সংসদে তুমুল অচলাবস্থা, ক্ষমা চাইতে শাহকে ঘিরে বিরোধীদের চাপ। নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগে সংসদে তুমুল অচলাবস্থা, ক্ষমা চাইতে শাহকে ঘিরে বিরোধীদের চাপ। নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পুলিশের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ। বিরোধী সাংসদদের তীব্র হইহট্টগোল ও বিক্ষোভের জেরে লোকসভা এবং রাজ্যসভার কার্যক্রম দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতবি করে দিতে বাধ্য হন দুই কক্ষের অধ্যক্ষ। সোমবারের পর মঙ্গলবারও সংসদের ভিতরে ও বাইরে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি ‘দমনপীড়নের’ প্রতিবাদে সরব হন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে ক্ষমা চাইতে হবে।

সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কেন্দ্রের আনা সংশোধনী বিল নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী সাংসদরা ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন এবং স্লোগান-বিক্ষোভে সংসদের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে নির্ধারিত আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংসদ চত্বরে পাল্টা বিক্ষোভে নামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সাংসদরা। তাঁদের দাবি, পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায় নিয়ে আপ-শাসিত রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দিতে হবে। একই সঙ্গে আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরীওয়ালের কাছেও এই বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেন তাঁরা। এই বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিজেপির দুই রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব ও রাহুল সিন্‌হাকেও অংশ নিতে দেখা যায়।

এদিকে, দিল্লিতে ছাত্রদের ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ’ দমনে ছররা গুলি বা পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী দলগুলি। অভিযোগ, গত ২০ জুলাই ‘সিজেপি’-র সংসদ অভিযানের সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআরপিএফ-এর অধীনস্থ র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) বিক্ষোভকারীদের ওপর ছররা গুলি চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংসদে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। দেশজুড়ে চলা আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি হামলার অভিযোগ এবং পুলিশের উপর হামলার পাল্টা অভিযোগের তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নোটিস জারি করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।

এদিন, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আন্দোলনের সময়কার সমস্ত প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ক্যামেরার ফুটেজ এবং পুলিশের বডি-ক্যামের ভিডিও। দিল্লির পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, বিহার, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশে হওয়া ‘নিট’ আন্দোলনের সমস্ত ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সি কোন বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে আপাতত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। যাঁদের গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে, তাঁদেরও মুক্তি দিতে হবে, যদি না তাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনও গুরুতর অপরাধের রেকর্ড থাকে।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করেছে, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে এবং এমনকি পেলেট গানও চালিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার সেই সব মামলার একত্রে শুনানি হয়। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি মন্তব্য করেন, “যদি কেউ সীমা অতিক্রম করে, আইন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।” তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছেন। তবে পুলিশি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ও বৈধতা নিয়েও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা হওয়া দরকার।

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হয়েছেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তবে তিনি আদালতকে মনে করিয়ে দেন, ‘নিট’ আন্দোলনের সময় প্রায় ২৫০ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত সত্য সামনে আনতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন, যাতে পুলিশের মনোবলও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তুষার মেহতা বলেন, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা কোনও অশান্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি আদালতে তথ্য জমা দেওয়ার কথা জানান। আন্দোলনে কিছু দুষ্কৃতীর অনুপ্রবেশের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টও স্বীকার করেছে।

এ পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্ট নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশজুড়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে একটি সাধারণ নির্দেশিকা তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এ বিষয়ে মতামত জানতে আগামী শুনানিতে সমস্ত রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলদের ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ আগস্ট। তদন্ত কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল। তবে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কয়েকটি নামের বিরোধিতা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত কমিটির সদস্য নির্বাচন করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের উপরই থাকা উচিত।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!