Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ৩১, ২০২৬

চাকরি থেকে বরখাস্ত, আইনি জটিলতা কাটিয়ে ‘‌নো অবজেকশন’‌ পেতেই প্রচার শুরু এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্নার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চাকরি থেকে বরখাস্ত, আইনি জটিলতা কাটিয়ে ‘‌নো অবজেকশন’‌ পেতেই প্রচার শুরু এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্নার

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনে এবার এশিয়াডে সোনাজয়ী ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মনকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জটিলতা ছিল। কারণ তিনি রেলের কর্মচারী ছিলেন। নিয়ম অনুসারে রেলের কর্মচারী হয়ে কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেননি। অবশেষে রেলের চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেন স্বপ্না বর্মন। ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। বরখাস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোমবার থেকে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়লেন স্বপ্না।

২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন স্বপ্না বর্মন। রাজনীতির ময়দানে নামার পরেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। নিয়মানুসারে, রেলের চাকরিরত অবস্থাতে রাজনৈতিক দলে যোগদান করা যায় না। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় স্বপ্নার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে আসে রেল কর্তৃপক্ষ। চাকরি থেকে অব্যাহতি চাইলেও প্রথমে অনুমতি দেয়নি আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশন। তাঁকে শোকজ করা হয় ৷ ১০ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শোকজের জবাব না দিয়েই ১৫ মার্চ আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশনকে ইস্তফাপত্র পাঠান স্বপ্না।

কিন্তু রেল স্বপ্নার ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেনি ৷ এরপর কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার শুনানিতে রেল আদালতকে জানায়, স্বপ্না রেলের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিলে তাঁকে অব্যাহতি দেবে। পাশাপাশি শর্ত আরোপ করে, অবসরকালীন সব সুযোগ–সুবিধা এবং গত কয়েকমাস ছুটিতে থাকাকালীন পাওয়া বেতন ফেরত দিতে হবে। পরে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ৩০ মার্চের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে রেলের কাছে স্বপ্নাকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। ইমেল করলেও করলেও স্বপ্না ক্ষমা চাননি ৷ পরদিন আবার বিষয়টি আদালতে ওঠে৷ স্বপ্নাকে আবার ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের নির্দেশ মেনে স্বপ্না রেলকে চিঠি দিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। এরপরই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে রেল। বরখাস্ত করার পাশাপাশি স্বপ্নাকে ‘‌নো অবজেকশন’‌ ও ‘‌নো ডিউ’‌ সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলের আইনজীবী সুদীপ্ত মজুমদার।

এই ব্যাপারে স্বপ্নার বলেন, ‘‌আমি এনওসি এবং নো ডিউ সার্টিফিকেট পেয়েছি। এখন প্রার্থী হওয়া নিয়ে কিংবা ভোটের প্রচার নিয়ে আর জটিলতা নেই৷ প্রচারেও নেমে পড়েছি।’ ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইনস্পেক্টর হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন স্বপ্না। ‌ ‘‌নো অবজেকশন’‌ পেতেই এক মুহূর্ত দেরি না করে সোমবার থেকেই নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েন স্বপ্না। সঙ্গে ছিলেন দলের নেতা কৃষ্ণ দাস ও রাজগঞ্জ বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!