- দে । শ
- জানুয়ারি ১৮, ২০২৩
প্রকাশ্য দিবালোকে চারজনের হাত কেটে নিল তালিবান। মানবাধিকারের বারংবার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিশ্বের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ
মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানাচ্ছে তালিবানি স্বৈর শাসন। এবার জনসমক্ষে ক্রীড়াঙ্গনে কেটে নেওয়া হল চার জনের হাত। গোটা ঘটনায় তালিবান সরকারকে ধিক্কার বিশ্বের মানবাধিকার কর্মীদের।
মঙ্গলবার আফগানিস্তানের কান্দাহরে আহমদ শাহি স্টেডিয়ামে ৯ জন ব্যক্তিকে ধরে আনা হয়। ধৃতদের মধ্যে কারোর কারোর বিরুদ্ধে ছিল চুরি ডাকাতির অভিযোগ,কারও বিরুদ্ধে ছিল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার। প্রাদেশিক গভর্নর হাজি জঈদ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, নজনকেই মাঠের মধ্যে সর্ব সমক্ষে এনে ৩৯ থেকে ৪০ বার চাবুক মারা হয়। তবে হাত কাটার কথা স্বীকার করেন নি তিনি।
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রিটেনের আফগান শরণার্থী দফতরের মুখ্য পরামর্শদাতা শবনম নসিমি। মঙ্গলবার একটি টুইট করে তিনি জানিয়েছেন ফুটবল স্টেডিয়ামে নয় জন অভিযুক্তর মধ্যে চার জনের হাত চুরির অভিযোগে কেটে নিয়েছে তালিবান শাসক। প্রকাশ্যে তাদের ওপর চাবুক চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে যে ভাবে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এই শাস্তি দেওয়া হল তা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই আফগানিস্তানের লাঘমান, তোখার, পারওয়ান সহ একাধিক প্রদেশে চুরি, নিষিদ্ধ যৌনতায় লিপ্ত থাকা ও অন্যান্য সামাজিক আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে লিঙ্গ নির্বিশেষে ১০০-রও বেশি ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে টেনে এনে ১০ থেকে ১০০ বার চাবুক চালিয়েছে তালিবান। আফগানিস্তানে প্রথা অনুযায়ী অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকার জন্য নারী পুরুষ উভয়েরই শাস্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেবলমাত্র মেয়েদেরই শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ডিসেম্বর মাসের ৭ তারিখে আফগান সরকার জনসমক্ষে এক ব্যক্তিকে ফাঁসিও দেয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের যাবতীয় শর্ত এভাবেই লঙ্ঘন করে চলেছে তালিবান। যা থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে পেতে চাইছে আফগানিস্তান সহ গোটা বিশ্ব।
❤ Support Us






