- বি। দে । শ
- অক্টোবর ১৩, ২০২৬
উত্তরকে পাল্টা জবাব দক্ষিণের, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কিম জংয়ের, দুই কোরিয়ার উত্তেজনা বাড়ছে
দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের পরিমণ্ডলে জড়িয়ে রয়েছে। এবার কি তাহলে পূর্ব এশিয়ার পালা ? দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়া একটা হাইপারসনিক অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। এবার পাল্টা জবাব উত্তর কোরিয়ার। সোমবার উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরের দিকে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। উত্তর কোরিয়ার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া সোমবার তার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সাম্প্রতিককালে অস্ত্রের এই প্রদর্শনী দীর্ঘদিনের স্থবির কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের পার্শ্ববর্তী একটা এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উত্তর কোরিয়া তার বিমান ঘাঁটিকে প্রধান উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়া নিক্ষেপ করেছে, কতদূর সেগুলি গিয়েছিল, তা দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি। তবে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দেখেছে। তাদের অনুমান, ক্ষেপনাস্ত্রগুলি দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সমুদ্রে পড়েছে।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম দেশীয়ভাবে তৈরি হাইপারসনিক অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। তার কয়েকদিন পরেই উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপনাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল। দক্ষিণ কোরিয়ার হাইপারসনিক অস্ত্র শব্দের গতির চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে উড়তে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ং এটিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
সিওলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণের জন্য ঘন ঘন অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে ছিল ৩ অক্টোবরের পরীক্ষা, যেটিকে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়ানোর জন্য তৈরি একটা হাইপারসনিক মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বলে বর্ণনা করেছে।
উত্তর কোরিয়া আরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চালিয়েছে এবং একটা নতুন যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করেছে। কিম জং–উন তাঁর পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি প্রদর্শন করছেন এবং এNorthকই সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্থগিত কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত মাসে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত আন্তঃ-কোরীয় সীমান্তের কাছে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিনজন দক্ষিণ কোরীয় সৈন্য আহত হওয়ার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বিস্ফোরণগুলো উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণে ঘটেছে। তবে, উত্তর কোরিয়া দায় স্বীকার করেনি এবং ক্ষমা চাওয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার দাবিকে উপহাস করেছে।
সাম্প্রতিককালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার মধ্যে, কিম জং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থগিত করেছেন এবং প্রতিবেশী দেশকে তাঁর ঘোর শত্রু হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় শুরু করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
❤ Support Us








