- দে । শ
- জানুয়ারি ২১, ২০২৩
লেখালেখিই পারে ভয়কে দূরে রাখতে, সাহিত্য উৎসবে মন্তব্য দৃঢ়চেতা সাংবাদিক রবীশের
ক্রমাগত লেখালেখিই ভয়কে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেয়। সাহস জোগায় শাসন ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিকেও প্রশ্ন করার। জয়পুর সাহিত্য উৎসবের দ্বিতীয় দিনে এসে এমনই মন্তব্য করলেন এনডিভির প্রাক্তন সাংবাদিক ও সঞ্চালক রবীশ কুমার।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে জয়পুর সাহিত্য উৎসব। শুক্রবার ‘দ্য নেচার অফ ফিয়ার’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন রবীশ কুমার। অনুষ্ঠানে ‘দ্য ফ্রি ভয়েস’ গ্রন্থের রচয়িতাকে শাসকের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবার ক্ষেত্রে তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের সাংবাদিকতায় আসার আগের জীবনের স্মৃতিচারণা করতে থাকেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মোটেও ততটা সাহসী ছিলেন না, যতটা তিনি আজ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর সহাস্য কৌতূকপূর্ণ মন্তব্য, এমনকি রাস্তা পারাপারেও তাঁর মধ্যে ভয় কাজ করত। তাঁর নিজের আত্মীয় স্বজনরাও পর্যন্ত অবাক হন আজ তাঁকে এত দৃপ্তকন্ঠে দূরদর্শনের পর্দায় সঞ্চালনা করতে দেখে। ভয়কে জয় করবার প্রশ্নের উত্তরে নিজের লেখালেখির করবার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আরো বলেন যে যত তিনি লিখতে থাকেন ততই ভয় তাঁর কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। রবীশের আরও সংযোজন যে, লেখালেখির সময় মানুষ নিজের সঙ্গে কথা বলে, অন্য কেউ তাঁকে দেখতে পায় না। ব্যক্তি মানুষ যত নিজেকে প্রশ্ন করে, তত বেশি নিজের সঙ্গে লড়াই সে চালিয়ে যেতে পারে। অনুষ্ঠানে তাঁকে ভীতিকে সংজ্ঞায়িত করতে বলা হলে, তিনি আবারও কৌতূক ভরে উত্তর দেন যে, এইধরনের প্রশ্নর উত্তর কেবল বাবা রামদেবই দিতে পারেন, আর কেউ না।
ভয়ের কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাঁর বক্তব্য যে বিভিন্ন কারণে মানুষ ভীত হতে পারে। তাঁর নিজের যেমন বেশ কিছু বিষয়কে আতঙ্কের মনে হতে পারে, আবার অন্যদের অন্য কোনো বিষয়ে। তবে আজকের দিনে সমস্ত মানুষের ভীতির মধ্যে একটা সাদৃশ্য রয়েছে। সমষ্টিগত ভাবে এই ভয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাহলে সেই ভয় দূরীভূত হতে পারে। বিজেপি শাসিত ভারতে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে সাধারণ নাগরিকের করণীয় কি হতে পারে তার প্রেক্ষিতে রবীশের এদিনের ভাষণকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
❤ Support Us






