Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জুলাই ৩, ২০২৬

স্বাধীন তিব্বতের দাবিতে রাষ্ট্রসংঘের সামনে আত্মহুতি যুবকের! তোলপাড় নিউ ইয়র্ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
স্বাধীন তিব্বতের দাবিতে রাষ্ট্রসংঘের সামনে আত্মহুতি যুবকের! তোলপাড় নিউ ইয়র্ক

স্বাধীন তিব্বতের দাবি এবং চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরের সামনে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। এই ভয়ানক ও মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। চিনা দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ওই যুবক নিজের জীবন বিসর্জন দিলেন বলে জানা গেছে।

নিউ ইয়র্ক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিট নাগাদ পুলিশের কাছে একটি জরুরি ফোন আসে। খবর পাওয়া যায়, ফার্স্ট অ্যাভিনিউ এবং ৪২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে— ঠিক রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে— এক ব্যক্তি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। খবর পেয়েই পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অগ্নিদগ্ধ যুবককে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মঘাতী হওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তেও ওই যুবকের হাতে শক্ত করে ধরা ছিল তিব্বতের জাতীয় পতাকা।

‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত’ সংগঠনের সভাপতি তেনচো গিয়াতসো নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। মৃত যুবকের নাম লবগা রাংজেন। তিনি তিব্বতপন্থী আন্দোলনের একজন অত্যন্ত সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জানা গেছে, তিব্বতে চিনের অবৈধ দখলদারি এবং সম্প্রতি চিনা প্রশাসনের চাপিয়ে দেওয়া বিতর্কিত ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন রাংজেন। চিনা প্রশাসনের দাবি, এ আইনের উদ্দেশ্য হলো দেশের সব জাতির মধ্যে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা। তবে মানবাধিকার কর্মী ও তিব্বতিদের অভিযোগ— আইনের আড়ালে উইঘুর মুসলিম ও তিব্বতিদের মতো সংখ্যালঘুদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও অধিকারকে পুরোপুরি খর্ব করে সেখানে চিনা সংস্কৃতি জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

চরম বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হয়েছেন তিব্বতিরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে কোনো সদর্থক সাড়া না মেলাতেই চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকে রাংজেন এই চরম পথ বেছে নেন বলে মনে করা হচ্ছে। নজিরবিহীন মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি আমরা আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, তিব্বতের ওপর চিনের আগ্রাসনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৫০ সাল। ভারত স্বাধীন হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিব্বতকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি করে সেখানে সেনা পাঠায় কমিউনিস্ট চিন। ১৯৫৯ সালে চিনা ফৌজ তিব্বতিদের স্বাধিকার আন্দোলন ও বিদ্রোহকে নির্মমভাবে দমন করে সম্পূর্ণ তিব্বত দখল করে নেয়। আগ্রাসনের মুখে তিব্বতের রাজধানী লাসা ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নেন তিব্বতিদের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা দলাই লামা। হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় তিব্বতের নির্বাসিত সরকার গঠিত হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দলাই লামার নেতৃত্বে তিব্বতিরা শান্তিপূর্ণভাবে স্বায়ত্তশাসন এবং চিন-তিব্বত বিরোধের মীমাংসার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু লবগা রাংজেনের আত্মবলিদান প্রমাণ করে দিল যে, চিনের দমননীতির বিরুদ্ধে তিব্বতি যুবসমাজের ক্ষোভ এখন কতটা চরম সীমায় পৌঁছেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!