- দে । শ
- মে ৭, ২০২৬
‘দুঃসময়ে’ দলে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টিতে সীমাবদ্ধ থেকেছে তাদের দখল, ফলে সরকার গঠনেও ব্যর্থ হয়েছে একদা শাসক দল। এই ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আর দলের ভেতরেই শুরু হয়েছে দোষারোপের রাজনীতি।
এই প্রেক্ষাপটে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। দলের একাংশের মতে, তাঁর ‘ব্যর্থতা’র কারণেই এই বিপর্যয়। ইতিমধ্যে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং কোহিনুর মজুমদার প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করে অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। যদিও দলীয় তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও সমালোচনা বা ক্ষোভ প্রকাশ বরদাস্ত করা হবে না।
ভোটের ফল ঘোষণার পর মঙ্গলবার কালীঘাটে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শপথগ্রহণের আগেই হবু বিধায়কদের এই বৈঠকে হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সূত্রের খবর, অন্তত ৯ জন জয়ী প্রার্থী বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই বৈঠকেই এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের নির্বাচনের আগে দলের জন্য করা পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন এবং উপস্থিত সকলকে তাঁকে সম্মান জানাতে উঠে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী বৈঠকে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। তালিকায় ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খান-এর মতো বর্ষীয়ান নেতারাও। এই ঘটনাকে অনেকেই অভিষেকের প্রতি মমতার অটুট আস্থার স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে দলের ‘দুঃসময়ে’ ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দেন তৃণমূল নেত্রী। ‘অন্তর্ঘাত’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যে বা যারা অন্তর্ঘাত করছে, তাদের নাম দিন।” দল যে ভেতর থেকে ভাঙনের মুখে পড়তে পারে, সেই আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেন। যদিও বৈঠকে অনুপস্থিত ৯ বিধায়কের বিষয়ে তিনি জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দলীয় পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত থাকায় তারা আসতে পারেননি।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও। বৈঠক চলাকালীনই জানা যায়, ফিরহাদ হাকিম-এর কনভয়ের গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতদিন মন্ত্রী ও মেয়র হিসেবে তিনি জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন, যেখানে ৮ জন নিরাপত্তারক্ষী ও ২ জন পিএসও ছিলেন। এখন মন্ত্রীত্ব না থাকায় সেই নিরাপত্তা কমানো হয়েছে। একইভাবে অরূপ বিশ্বাস-এর সঙ্গেও থাকা দুটি গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনী ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিদিনের ঘটনাপ্রবাহে।
❤ Support Us





