- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৮, ২০২৫
ত্রিপুরায় পুলিশি বাধা, ধর্নায় বসলেন তৃণমূল প্রতিনিধিরা। ‘গান্ধীবাদ’ ছেড়ে ‘সুভাষবাদের’ ডাক শশি পাঁজার
ত্রিপুরা সফরে গিয়ে পুলিশি বাধার অভিযোগ তুলে আগরতলা বিমানবন্দরেই ধর্ণায় বসলেন তৃণমূলের ৬ জনের প্রতিনিধি দল। অভিযোগ, আগে থেকেই তাঁদের কর্মসূচীর রূপরেখা পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হলেও, বিমানবন্দর থেকে বেরোতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। বরং ৪টি গাড়ির মধ্যে ৩টি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একটিমাত্র গাড়িতে ৬ জন প্রতিনিধিকে চাপিয়ে দিতে চায় পুলিশ, যা কোনো ভাবেই সম্ভব নয় বলে দাবি কুণাল ঘোষদের।
পুলিশের এহেন বাধা পেয়ে গন্তব্যে না গিয়ে এয়ারপোর্টের সামনেই ধর্নায় বসেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, সাংসদ সায়নী ঘোষ, সুস্মিতা দেব, প্রতিমা মণ্ডল, মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা ও রাজ্য নেতা সুদীপ রাহা। পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তাঁরা জানান, প্রয়োজনে ব্যাগ আলাদা গাড়িতে পাঠিয়ে হেঁটেই এগিয়ে যাবেন তাঁরা। সায়নী ঘোষ বলেন, ‘আমরা এখানে ঘুরতে আসিনি। এসেছি ত্রিপুরায় আমাদের পার্টি অফিসে পরিকল্পিত হামলার প্রতিবাদ জানাতে। দেখি, পুলিশ কতক্ষণ বাধা দেয়। প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে যাব।’
ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, মঙ্গলবার আগরতলায় দলের কার্যালয়ে হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর, লুটপাট চলে প্রকাশ্যে। তাতে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও নির্বিকার দর্শকের ভূমিকা নেয়। সে ঘটনার প্রতিবাদেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আগরতলায় পৌঁছেছেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। কিন্তু সেখানেই আবার পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হবে, তা ভাবেননি কেউই। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আমাদের সফরের কথা আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ চলছে। এটা বরদাস্ত করা যায় না।’ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত বাধা সত্ত্বেও তাঁদের কর্মসূচি আগের মতোই চলবে। তাঁদের বক্তব্য, ‘পুলিশ গাড়ি আটকে দিতে পারে, কিন্তু আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে লড়াই চলবেই।’
এর আগে, বুধবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। তাঁদের অভিযোগ, ‘ত্রিপুরায় যে সন্ত্রাস চলছে, তা পুরোপুরি রাষ্ট্র পরিচালিত। পুলিশের উপস্থিতিতে তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে। বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রশ্রয়ে এই রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে।’ শশী পাঁজা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আগের বার তৃণমূল নেতৃত্বকে খুন করার চক্রান্ত হয়েছিল। এবারও যদি কিছু ঘটে, তা হলে আমরা আর গান্ধীবাদে থাকব না, সুভাষবাদের পথে হাঁটব। দেশবাসী দেখুক, কী ভাবে গণতন্ত্রকে দমিয়ে রাখা হচ্ছে।’ অরূপ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, ‘ত্রিপুরায় ফ্লপ মুখ্যমন্ত্রী স্কোর কার্ড বাড়াতে গিয়ে পার্টি অফিসে হামলা করাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি পার্টি অফিস আছে, কেউ আক্রমণ করে না। কিন্তু ত্রিপুরায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে বারবার হামলা করা হচ্ছে।’
❤ Support Us








