Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ১, ২০২৬

‘দলবিরোধী কাজ’, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। সমাজমাধ্যমে কী লিখলেন কুণাল ঘোষ ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘দলবিরোধী কাজ’, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। সমাজমাধ্যমে কী লিখলেন কুণাল ঘোষ ?

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল । সই জাল বিতর্ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বড় তথ্য সামনে আনতেই ২ বিধায়ককে বহিষ্কার করল তৃণমূল । দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কৃত ২ তৃণমূল বিধায়ক । তবে তাঁদের ঠিক কোন দলবিরোধী কাজে এই পদক্ষেপ, তা স্পষ্ট করা হয়নি ।

বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপনই লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্পিকারকে । তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে । শুভেন্দু জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তে যুক্ত করার নির্দেশ দেন । শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ।

এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা, উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছুদিন ধরেই বেসুরো ছিলেন । সোমবার নবান্নে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিধাননসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল বিতর্কে প্রথম অভিযোগ করেছিলেন এই দুই বিধায়কই। তারপরই এই বড় সিদ্ধান্ত ।

বহিষ্কারের খবর পেয়েই এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, ‘ দল অনৈতিকভাবে চলবে, প্রতিবাদ করলেই শাস্তি । তার মানে দল অনৈতিকতাকেই সমর্থন করছে’ দল বহিষ্কার করতেই প্রতিক্রিয়া সন্দীপন সাহার ।

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূলের ২ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল বহিস্কার করার পরই বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ তাঁর ফেসবুকে তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করলেন । কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে লেখেন,
” আমার অবস্থান স্পষ্ট করে আবার বলি । তৃণমূল কংগ্রেস করি । নেতৃত্বের প্রতি আমার বহু অভিযোগ, রাগ, যন্ত্রণা ছিল এবং আছে । দলের কিছু কাজ, কিছু নেতার ঔদ্ধত্যপূর্ণ অপরিণত আচরণ, লোক চেনার ভুল, অভিজ্ঞ যোগ্য কর্মীদের গুরুত্বহীন করার আমি বিরোধী । আমি স্তাবক, সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে । ব্যক্তি স্বার্থান্বেষীদের পছন্দ করি না । আমার জীবন অপবাদে ধ্বংস করতে গেছিল এদের কেউ কেউ । জ্ঞানত কোনো অপরাধ করিনি । তখন তো আজকের বিপ্লবীরা কেউ মুখ খোলেনি ।
তবু, আমি দলের সৈনিক থেকে গেছি। এবার বিধানসভা নির্বাচনে দলনেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন । দলের প্রতীকেই আমি এবং আমরা বিধায়ক। ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি । তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা ? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন?? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব?? এটা কাপুরুষতা। দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না হলে তারপর দেখা যাবে। তার আগেই ‘ভালো’ সাজার এত চেষ্টা? অনেকের এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই তো??? যাঁরা দলের কাছ থেকে বহু দায়িত্ব, পদ, ক্ষমতা এতদিন পেয়ে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ক’জন আজ সামনে আছেন? বাকিরা কোথায়? দলের ভালোর সময়ে ক্ষমতা, ছবি, সেলফি; আর খারাপ সময়ে হাঁটু কাঁপছে???? ভয়??? আপনি বিরোধী বিধায়ক হতে ভয়??? সরকারপক্ষে থাকলে সাহসী ?? দলের তরফে বিধায়ক হওয়ার পর দলের বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে দলকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ? এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা!!! কর্মীরা বিচার করবেন। দল আবার ঢেলে সাজাবেন নেত্রী। একটু অপেক্ষা করা গেল না ?

তৃণমূলকে ভালো-মন্দের পথে রাখার ক্ষমতা বা এক্তিয়ার কোনোটাই আমার নেই। কিন্তু সদ্য বিধায়ক হওয়ার পরেই দলবিরোধী বা দিদির বাইরে কিছু করলে আমার বেলেঘাটার মানুষও আমাকে গদ্দার, বেইমান ভাববেন। নিজের কাছেও ছোট হয়ে যাব। তাই, হতে পারে বিরোধী দল, হতে পারে এখন চাপের মুখে, হতে পারে দল সমালোচিত; তবু মমতা ব্যানার্জির পাশেই থাকব। হতে পারে এর জন্য অনেক ঝড়, হয়রানি, নিগ্রহ আসবে আমার উপর, কিন্তু আমি এখন এই অবস্থানেই থাকব। যিনি আমাকে দলের প্রতীক দিয়ে বিধায়ক হওয়ার দরজা খুলে দিয়েছেন, এখন দলের খারাপ সময়ে তাঁর পাশ থেকে সরে যাব না। কর্মীরা মনে রাখুক এই বলে, আমাকে বিপদে ফেলে একসময় দল আমার পাশ থেকে সরে গেছিল। কিন্তু দলের বিপদে কুণাল ঘোষ দলের পাশ থেকে সরেনি ।
জয় বাংলা।

পুনশ্চ: যদি তৃণমূলের কাউকে কাউকে গাজর দেখিয়ে ভাঙানোর চেষ্টা বিজেপি করে, তাতে আমি বিজেপির দোষ দেখি না। ওরা আগেও ‘যোগদান মেলা’ করেছে। আমরাও ওদের লোককে নিয়েছি। ওরা আজ ক্ষমতায়। ওদের সমালোচনার আগে নিজের ঘরের দিকে তাকাবো। যারা নিজেরা সদ্য জিতে, দল সরকার থেকে সরেছে বলে বিলম্বিত বিবেক জাগরণের চিত্তচাঞ্চল্যে কাতর; দমবন্ধের ছটফটানি, তাদের দিকে দেখব। এরা নির্দল হিসেবে নিজে জেতেননি । মমতাদির প্রতীক, মুখ, প্রচার ব্যবহার করে জিতেছেন। তাদের অনেককে মাথায় তুলল কারা, তাদের প্রশ্ন করব। আগাগোড়া লোক চেনার ভুল হয়েছে, পদ্ধতির ভুল হয়েছে, কাজে ভুল হয়েছে। মস্ত ভুল। তবে অন্য অনেক দল ধোয়া তুলসীপাতা ভাবার কোনো কারণ নেই ।

যা হবার হবে, আমি মমতাদির সঙ্গে থাকছি ।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!