- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
ভোট এলেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’! মতুয়াগড়ে মোদির সভার আগে সমালোচনায় ঘাসফুল শিবির
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য সফরের কয়েক ঘণ্টা আগেই আক্রমণের সুর চড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার রানাঘাটে মোদির সভার আগে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপিকে একহাত নিলেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, ভোট এলেই প্রধানমন্ত্রীর ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জারি’ শুরু হয়। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই আবার বাংলায় আসছেন মোদি , তবে খালি হাতেই।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ২০২১ এবং ২০২৪— দুই নির্বাচনের আগেই বাংলার মানুষের সামনে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা এখনও মেলেনি। তাঁর দাবি, ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং আবাস যোজনার অর্থ কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছে। সব মিলিয়ে বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা এখনও দেওয়া হয়নি। সেই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের নিজস্ব কোষাগার থেকে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানান কুণাল।
প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, মোদি বাংলায় এসে টেলিপ্রম্পটারে লেখা ভাষণ পড়ে যাবেন, কিন্তু বাংলার মানুষের জন্য নতুন করে কিছু দেওয়ার নেই। তাঁর আরও অভিযোগ, বিজেপির রাজনীতি মানেই বাংলা বললেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার এবং বিভাজনের রাজনীতি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বিজেপিকে নিশানা করেন কুণাল ঘোষ। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, বাংলায় নাকি ১ কোটি রোহিঙ্গা লুকিয়ে আছে— কিন্তু বিজেপি আজ পর্যন্ত একজনেরও নাম বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
মতুয়া সমাজ প্রসঙ্গেও বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তিনি। কুণালের দাবি, সিএএ-র নামে মতুয়াদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। ফর্ম ফিলাপ মানেই আপনি নাগরিক নন— এই সত্য মানুষ এখন বুঝতে পারছে। তাঁর বক্তব্য, মতুয়া সমাজের মধ্যে বিজেপির ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে যাওয়াতেই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মোদীকে সভা করতে নামতে হচ্ছে।
কালো টাকা ইস্যু টেনেও কেন্দ্র সরকারকে বিদ্ধ করেন তৃণমূল মুখপাত্র। স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, এখন আবার সরকার বলছে— কালো টাকা বলে নাকি কিছুই হয় না।
অন্যদিকে, সফরের আগের দিন শুক্রবার রাতে সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস লুটপাট ও ভয় দেখানোর সব সীমা ছাড়িয়েছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যের মানুষের মধ্যে বিজেপিকে ঘিরে নতুন করে আশা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যে এসে কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্প ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শনিবারের জনসভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে মোদির আক্রমণ আরও তীব্র হতে পারে। তবে তার আগেই কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, ভোট এলেই এমন সফর হয়— আর মানুষ এই ভাঁওতা আর বিশ্বাস করবে না।
❤ Support Us






