- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১৫, ২০২৬
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র মুখোমুখি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের পর সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সোমবার কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দফতরে হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বেলা ১১টায় তলব করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই তিনি ইডি দফতরে পৌঁছে যান। তবে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অভিষেকের হাজিরাকে ঘিরে এ দিন সিজিও কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। অতিরিক্ত পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। আগে অভিষেকের আগমন উপলক্ষে গোটা চত্বরে কড়া নিরাপত্তা, সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ এবং যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা দেখা গেলেও সোমবার তেমন কোনও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
এর আগের দিন, রবিবার, বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক। প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই মামলায় বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও তলব করা হয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, অভিষেক ও কুণালকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে অভিষেক সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারও বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সল্টলেকে দায়ের হওয়া পৃথক অভিযোগের তদন্তে বুধবার আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না তদন্তকারী সংস্থা। তবে এই সুরক্ষা শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা এবং সল্টলেক থানায় দায়ের হওয়া অন্য মামলায় তাঁর জন্য কোনও আইনি রক্ষাকবচ নেই।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে ইডি। এর আগে সিবিআই তদন্তে একটি অডিয়ো ক্লিপ সামনে আসে, যেখানে চাকরি বিক্রির অর্থ এক জন ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর কাছে পাঠানোর প্রসঙ্গ শোনা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। সিবিআই তাদের চার্জশিটেও ওই অডিয়োর উল্লেখ করেছে। সেই অডিয়োর সূত্র ধরেই ‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
তদন্তকারী সূত্রের মতে, ওই অডিয়ো এবং তার আর্থিক লেনদেনের সম্ভাব্য যোগসূত্রকে ইডি তাদের তদন্তের আওতায় আনতে চাইছে। পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর আর্থিক লেনদেন সম্পর্কেও ইডি-র নজর রয়েছে। সেই সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেও এই আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গে অভিষেককে একাধিকবার জেরা করেছে ইডি।
এখন নজর তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
❤ Support Us








