- দে । শ
- মে ২৮, ২০২৬
কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকারকে চিঠি কাকলির, মৌখিক হেনস্থার অভিযোগে শাস্তির দাবি
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন দলেরই সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। বুধবার লেখা সেই চিঠিতে কাকলি অভিযোগ করেন, লোকসভার ভিতরে তাঁকে বারবার মৌখিক হেনস্থা করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের অনুমতিও স্পিকারের কাছে চেয়েছেন তিনি।
বারাসতের সাংসদ কাকলির দাবি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে মহিলা সাংসদদের প্রতি নারীবিদ্বেষী মনোভাব রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লোকসভার মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের আচরণ শোভন নয় এবং এই ধরনের আচরণের জন্য তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত রবিবার বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। সেই দিনই সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আই-প্যাকের নাম না করে ‘ভুঁইফোঁড় সংস্থা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এর পর বুধবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকেও ইস্তফা দেন। ইস্তফার কারণ হিসেবে আরজি কর-কাণ্ড এবং আই-প্যাক সংক্রান্ত অসন্তোষের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
দলীয় নেতৃত্বকে পাঠানো চিঠিতে নাম না করেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন কাকলি। তিনি লেখেন, “যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা ও সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন সে পদে থাকার মানে হয় না।”
কাকলির অভিযোগের জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, “২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর আবার কিসের এত কথা? নারদে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি, উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের জন্মদাত্রী কে, সকলে জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।”
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, লোকসভার বহু সাংসদই জানেন যে, দল আলাদা হলেও স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। ফলে কাকলির অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকার কল্যাণের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেন কি না, তা নিয়েই এখন কৌতূহল রাজনৈতিক মহলে।
❤ Support Us







