Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ১, ২০২৬

ফের ১৭৭ আসনে রিগিংয়ের অভিযোগ মমতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফের ১৭৭ আসনে রিগিংয়ের অভিযোগ মমতার

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ২৭ দিন পরও পরাজয় মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কালীঘাট থেকে ফেসবুক লাইভে এসে ফের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বিজেপি ১৭৭টি আসনে রিগিং করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তাঁর কথায়, তিনি নির্বাচনে হারেননি, বরং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে।

গত ৪ মে ফল প্রকাশের দিন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করে আসছেন যে জনতার রায়ে নয়, কারচুপির মাধ্যমে তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকেও তিনি স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেননি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তবে পরবর্তীতে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং রাজ্যের প্রশাসনিক ও নীতিগত ক্ষেত্রেও একাধিক পরিবর্তন আসে।

এবারও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাকে টার্গেট করে হারানো হয়েছে। প্রায় ১৭৭টি আসনে রিগিং হয়েছে। আমার কাছে সমস্ত তথ্য রয়েছে। আমাকে মারতে মারতে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তখন আমি এগিয়ে ছিলাম। পরে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও পরাজিত হওয়ায় বর্তমানে তিনি বিধায়ক নন। তবুও নির্বাচনী ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। এদিন তাপস চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে মমতা অভিযোগ করেন, “আমাদের তাপস চট্টোপাধ্যায় জিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরের দিন জোর করে পুনর্গণনা করা হয়। তারপর দেখানো হয় তিনি ৩০০ ভোটে হেরে গেছেন।”

তবে এই পরিস্থিতিতেও তৃণমূলকে দুর্বল করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “এভাবে তৃণমূলকে ভাঙা যাবে না। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।”

ফেসবুক লাইভে শুধু নির্বাচন নয়, বর্তমান রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও সরব হন তিনি। হকার উচ্ছেদ, জেলা জেলায় তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচার এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেভাবে অভিষেককে আক্রমণ করা হয়েছে, যারা তাঁকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জায়গাটা ছিল খুবই সরু গলি। যদি হেলমেট না থাকত, তাহলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হতে পারত। এরপর বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলছেন, ‘বেঁচে তো আছে!’”

এরপর বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “আপনারাও তো বেঁচে ছিলেন। আপনাদের আমরা দুধে-ভাতে রেখেছিলাম। আজ আপনারা যা করছেন, মানুষ তার ধিক্কার দিচ্ছে। আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন। মিটিং-মিছিলেরও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।”

শেষে হুঁশিয়ারির সুরে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “এভাবে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। লড়াই চলবে, আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠব।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!