Advertisement
  • বি। দে । শ
  • মে ২, ২০২৬

বাড়ছে অনাহার ও অপুষ্টির আশঙ্কা, বিশ্ব খাদ্যসঙ্কট সূচকে প্রথম দশে কোন কোন দেশ ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাড়ছে অনাহার ও অপুষ্টির আশঙ্কা, বিশ্ব খাদ্যসঙ্কট সূচকে প্রথম দশে কোন কোন দেশ ?

বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। বহু দেশে সাধারণ মানুষের এক বড় অংশ প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছেন না। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপুঞ্জ-সমর্থিত সংস্থার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস, ২০২৬’-এ উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। তালিকার প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান, পাশাপাশি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্যতম।

২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে নাইজেরিয়া। এরপর ক্রমানুসারে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, সুদান, ইয়েমেন ও আফগানিস্তান। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মায়ানমার, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান। তালিকার শেষ দু’টি দেশ হল দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া।

পাকিস্তানে খাদ্যসঙ্কট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দেশের প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবার পান না। প্রায় ১.১ কোটি মানুষ আধপেটা বা অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তার পরিমাপ—আইপিসি (ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন)—এ পাকিস্তান বর্তমানে চতুর্থ স্তরে রয়েছে, যা দুর্ভিক্ষের আগের বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে ধরা হয়। পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে বর্তমানে প্রায় ১৬৪০ কোটি ডলার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আমদানি খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮০ কোটি ডলার, অথচ রফতানি থেকে আয় মাত্র ২৭৪ কোটি ডলার। প্রবাসী আয় কিছুটা সাহায্য করলেও তা যথেষ্ট নয়।

বিশ্বের ৪৭টি দেশের প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে খাদ্য সঙ্কটে ভুগছেন। এই তালিকার প্রথম দশটি দেশেই বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষুধার্ত মানুষ বসবাস করেন। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় প্রায় ৯৩ লাখ ‘সঙ্কটজনক’ অবস্থায় এবং ১৭ লাখ ‘জরুরি’ অবস্থায় রয়েছেন। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১৬ শতাংশ মানুষ খাদ্য সংকটে ছিলেন, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশে। অর্থাৎ নতুন করে প্রায় ১.৪ কোটি মানুষ এই সঙ্কটে যুক্ত হয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, জ্বালানি সঙ্কট এবং ঋণের চাপ (বিশেষত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি) পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা শুধু মানবিক সঙ্কট নয়, এটি রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং সামাজিক অশান্তিকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জলসঙ্কট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষিনির্ভর পাকিস্তানে সেচব্যবস্থা মূলত সিন্ধু নদীর উপর নির্ভরশীল। জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!