- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- এপ্রিল ১০, ২০২৬
পাকিস্তানে শান্তিবৈঠকের আগেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে কী বার্তা ট্রাম্পের ?
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ শান্তিবৈঠকের ঠিক আগে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর শুল্ক আরোপের অভিযোগ তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘ইরান থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ অব্যাহত থাকবে।’
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী প্রথমে ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজের অবাধ চলাচলে সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তেহরান অবস্থান বদলে জানায়, হরমুজ প্রণালীর উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং সংঘর্ষবিরতির দুই সপ্তাহে দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, তাও শুল্কের বিনিময়ে। তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে ইরানের সমালোচনা করে বলেন, তারা হরমুজ় পরিচালনায় ‘খুব খারাপ কাজ’ করছে এবং জাহাজ চলাচলের উপর অর্থ আদায় করা হলে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয় এই প্রণালী দিয়ে, এবং খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
শুক্রবার ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তিবৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও প্রাক্তন উপদেষ্টা জারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৈঠকের প্রথম পর্বে অংশ নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। শান্তিবৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—শহরজুড়ে ব্যারিকেড বসিয়েছে সেনা ও রেঞ্জার্স বাহিনী। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইতিমধ্যেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, এই বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ দায়িত্ব ভাইস প্রেসিডেন্টকে দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। আমেরিকার প্রধান দাবি, ইরান যেন তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুদ সমর্পণ করে। অন্যদিকে, ইরান চায় পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির উপর হামলা বন্ধ করা হোক। তবে এই দাবি ইতিমধ্যেই আমেরিকার মিত্র ইজ়রায়েল খারিজ করেছে।
এদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লার উপর ইজ়রায়েলের ধারাবাহিক হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান জানিয়েছে, হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদিও লেবানন সমস্যা আলাদাভাবে সমাধানের বিষয়ে পাকিস্তানের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং পাকিস্তানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা বাস করে। ফলে এই শান্তিবৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান সফল হলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাদের গুরুত্ব অনেকটাই বৃদ্ধি পেতে পারে।
❤ Support Us





