Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জানুয়ারি ২২, ২০২৬

দাভোসে ট্রাম্পের মোদি স্তুতি, দুই দেশের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কী ইঙ্গিত ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দাভোসে ট্রাম্পের মোদি স্তুতি, দুই দেশের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কী ইঙ্গিত ?

ভারত–আমেরিকার সম্পর্ক যখন শুল্কবাণ ও বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে টানাপোড়েনের মধ্যে, ঠিক সেই সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চ থেকে ট্রাম্প জানালেন, ভারতের সঙ্গে খুব শীঘ্রই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি হতে চলেছে।

বুধবার দাভোসে বক্তৃতা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “মোদির সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত সুমধুর। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। মোদি একজন দারুণ নেতা। খুব শীঘ্রই আমরা ভারতের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি করতে যাচ্ছি।” এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে মোদির প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

কারণ, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ২৫ তারিখ ভারত সফরে আসছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। এই সফরের আগে ট্রাম্পের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই আমেরিকা নিজেদের চুক্তি সেরে ফেলতে চাইছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি আটকে রয়েছে। এর মূল কারণ, মার্কিন কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপ। আমেরিকা চায় ভারতের কৃষিপণ্য, মৎস্য এবং ডেয়ারি পণ্যের বাজার খুলে দেওয়া হোক। কিন্তু এই শর্তে রাজি নয় ভারত। সরকারের মতে, এই তিন ক্ষেত্রে বাজার খুলে দিলে দেশের কৃষকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। একই কারণে ব্রিটেনের সঙ্গেও বাণিজ্যচুক্তিতে এই ক্ষেত্রগুলিতে ছাড় দেয়নি ভারত।

এই মতপার্থক্যের জেরেই দীর্ঘদিন ধরে ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি কার্যত থমকে রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের আশার আলো দেখছেন অনেকে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক ও অতিরিক্ত জরিমানা চাপানো হয়। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণেই ভারতের ওপর এই চড়া হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট ভাটার লক্ষণ দেখা যায়।

এই আবহে ট্রাম্পের নতুন বার্তা এবং মোদির প্রশংসা ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের বরফ গলাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!