Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • এপ্রিল ৭, ২০২৬

এক রাতেই ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববন্ধনে পাল্টা চাল ইরানের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এক রাতেই ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববন্ধনে পাল্টা চাল ইরানের

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের তেজ চরমসীমায়। আঘাত-পাল্টা আঘাতে মুহুর্মুহ কেঁপে উঠছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।  যুদ্ধ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুরো ইরানকে এক রাতের মধ্যেই ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন ‌ডোনাল্ড ট্রাম্প । বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হবে । মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই হুমকির পরপরই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলির ওপর হামলা বৃদ্ধি করেছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের আইআরজিসি–র গোপন ভূগর্ভস্থ সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে । এই প্রেক্ষাপটেই সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি এক অভিনব কৌশল সামনে এনেছে তেহরান—দেশজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন ঘাঁটিগুলির উপর হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি নামতে থাকে। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরান বড়োসড়ো হামলা চালিয়েছে এবং তা পূর্ববর্তী আক্রমণেরই ধারাবাহিকতা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ট্রাম্পের হুমকির সঙ্গে সময়ের ব্যবধান খুব কম, এবং সে কারণেই এই সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন । এদিকে, সৌদি আরব তার পূর্বাঞ্চলে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে, যেগুলোর ধ্বংসাবশেষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে এসে পড়েছিল । সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, মঙ্গলবার দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি আরব । এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির ধ্বংসাবশেষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে এসে পড়েছে । মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে, তবে কারা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুড়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি । এ হামলা নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং গোটা অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করারই ইঙ্গিত বহন করছে।

একই সময়ে উত্তেজনার আঁচ পৌঁছে যায় সৌদি আরব-এও। দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয় সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রগুলি কারা ছুড়েছে, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু জানানো হয়নি, তবে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সন্দেহের তীর স্বাভাবিকভাবেই ইরানের দিকেই ঘুরেছে। প্রতিহত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলির ধ্বংসাবশেষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় এসে পড়ায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলেই নয়, ইরান তার হামলার বিস্তার ঘটিয়েছে আরও বিস্তৃত পরিসরে। মার্কিন ঘাঁটিগুলির পাশাপাশি ইজরায়েল-এর দিকেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর। ফলে সংঘর্ষের ভৌগোলিক বিস্তার ক্রমশ বাড়ছে এবং তা যে বৃহত্তর যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

এহেন পরিস্থিতিতে পাল্টা আঘাতে পিছিয়ে থাকেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অত্যাধুনিক বি–২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে তেহরানে অবস্থিত আইআরজিসি-র একটি গোপন ভূগর্ভস্থ সদর দফতরে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। মার্কিন সূত্রে দাবি, ওই অভিযানে ‘বাঙ্কার–বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে—যা ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থাপনাকেও সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম। ঘটনার নাটকীয়তা এখানেই শেষ নয়। প্রথম দফার হামলার পর যখন উদ্ধারকারী চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখনই দ্বিতীয় দফার বিমান হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ‘ডাবল স্ট্রাইক’-এ বহু আইআরজিসি কমান্ডারের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। জানা গেছে, মার্কিন সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জানা গিয়েছে, হোয়াইট ম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে উড়ে আসা বি–২ বোমারু বিমানগুলি প্রায় ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ উড়ান শেষে তেহরানে পৌঁছে এই হামলা চালায়। লক্ষ্য ছিল আইআরজিসি-র ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের এক গোপন সমাবেশ, এবং মার্কিন দাবি অনুযায়ী সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে— স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং একাধিক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

এই ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার আবহেই কৌশলগত পালাবদল ঘটিয়েছে ইরান। সরাসরি সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি তারা এখন গণআন্দোলনের পথেও হাঁটছে। সম্ভাব্য মার্কিন হামলা থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে রক্ষা করতে তেহরান দেশজুড়ে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ২টো, অর্থাৎ ভারতীয় সময় বিকেল ৪টে থেকে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে এই মানবশৃঙ্খল গড়ে তোলা হবে। বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে তরুণ প্রজন্মকে— বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনকে এতে অংশগ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে—‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ইরানের তরুণদের মানববন্ধন’। ইরানের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রকের উপমন্ত্রী আলিরেজা রহিমি এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি মূলত তরুণ সমাজের প্রস্তাব থেকেই গৃহীত। সরকারের আশা, এই মানববন্ধন শুধু প্রতিরোধের প্রতীক হবে না, বরং জাতীয় ঐক্যের এক দৃশ্যমান প্রকাশ হয়ে উঠবে।

চলমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে বহু আলোচিত হরমুজ প্রণালী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ইরান তার মিত্র দেশগুলির জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও আমেরিকা ও ইজরায়েলের জাহাজের উপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন— মঙ্গলবার রাত ৮টা (ভারতীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা) পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে আরও ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!