- দে । শ
- ডিসেম্বর ৯, ২০২৫
কসবায় মর্মান্তিক ঘটনা, বাবার পচাগলা দেহ আগলে বসে মেয়ে, বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার মা । উসকে দিচ্ছে রবিনসন স্ট্রিটের স্মৃতি
কসবায় ঘটল প্রাণে শিহরণজাগানো ঘটনা, যা শহরবাসীকে ফের মনে করিয়ে দিল রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি। দিনের পর দিন নিজের বাবার পচাগলা দেহ আগলে ঘরের ভিতরেই বসে ছিলেন তরুণী। খাটের তলা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হল তাঁর মাকেও। সোমবার কসবা থানার পুলিশ দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে।
ঘটনাটি বোসপুকুর এলাকার। সুমিত সেন নামে এক ব্যক্তি স্ত্রী অর্চনা সেন এবং মেয়ে সম্প্রীতি সেনকে নিয়ে ওই বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিবারের তিন সদস্যই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তেমনভাবে বাইরে বেরোতেন না। কয়েকদিন তাঁদের কাউকে চোখে না পড়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে প্রতিবেশীদের মনে।
এক আত্মীয় ফোনে খোঁজ নিতে চাইলে সম্প্রীতি জানান, বাবা-মা ভাল আছেন, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ বারবার এড়িয়ে যান তিনি। সোমবার ওই আত্মীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে বাড়িতে গেলে দেখা যায়, ঘর ভিতর থেকে বন্ধ এবং ভিতর থেকে কোনও সাড়া মিলছে না। খবর দেওয়া হয় থানায়।
পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার পর তীব্র দুর্গন্ধে স্তম্ভিত হয়। ঘরের মাঝে পড়ে ছিল সুমিত সেনের পচাগলা দেহ, আর তার পাশেই নির্বিকারভাবে বসে ছিলেন মেয়ে সম্প্রীতি। খাটের নিচে বস্তার ভেতর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অর্চনা সেনকে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুমিত সেনের মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশের অনুমান, অসুস্থতার কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে, যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। সম্প্রীতির অস্বাভাবিক আচরণে উদ্বিগ্ন পুলিশ তাঁর মানসিক অবস্থার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে।
২০১৫ সালের রবিনসন স্ট্রিটের ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি এই ঘটনার পর ফের জাগরূক হয়ে উঠেছে—যেখানে বছরভর ঘরে পড়ে থাকা এক তরুণীর কঙ্কাল এবং আগুনে ঝলসানো এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার করে শহর আতঙ্কিত হয়েছিল।
❤ Support Us





