Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৫, ২০২৬

সাইবার অপরাধের জাল উন্মোচনে বিশেষ অবদান, পুলিৎজার সম্মানে আলোকিত দুই ভারতীয় সাংবাদিক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সাইবার অপরাধের জাল উন্মোচনে বিশেষ অবদান, পুলিৎজার সম্মানে আলোকিত দুই ভারতীয় সাংবাদিক

বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতার জগতে সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতীক বলে ধরা হয় পুলিৎজার সম্মানকে।এবার সে সম্মানের তালিকায় উজ্জ্বল দুই ভারতীয় নাম। ২৬ সালের পুলিৎজার পুরস্কারে সম্মানিত হলেন ভারতীয় সাংবাদিক আনন্দ আরকে এবং সুপর্ণা শর্মা।ডিজিটাল নজরদারিসাইবার প্রতারণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার নিয়ে তাঁদের অনুসন্ধানী কাজ আন্তর্জাতিক সংবাদমহলে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। সোমবার ঘোষিত পুলিৎজার পুরস্কারে তাঁরা ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্টিং অ্যান্ড কমেন্টারি’  বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন। এই সম্মান তাঁরা যৌথ ভাবে ভাগ করে নিয়েছেন কানাডার ‘ব্লুমবার্গ’ সংবাদসংস্থার সাংবাদিক ন্যাটালি ওবিকো পিয়ারসনের সঙ্গে।

আনন্দ আরকে এবং সুপর্ণা শর্মার পুরস্কারজয়ী কাজটির নাম ট্র্যাপড। পুলিৎজার সম্মান-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনে ভারতের লখনৌ-এর এক স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। একটি ফোনকল থেকে শুরু হয়েছিল প্রতারণার ফাঁদ। ধাপে ধাপে ভয়বিভ্রান্তি এবং প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে তাঁকে এমন ভাবে আটকে ফেলা হয়েছিল যেনিজের মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই তিনি এক ধরনের ডিজিটাল গ্রেপ্তার’-এর মধ্যে বন্দি হয়ে পড়েন। দৃশ্যতথ্য এবং শব্দের সমন্বয়ে নির্মিত এই প্রতিবেদন দেখিয়েছেপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন কী ভাবে বদলে যাচ্ছে এবং মানুষের ব্যক্তিগত পরিসর কত সহজে অদৃশ্য নজরদারির আওতায় চলে আসছে।

তাঁদের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন কেবল ব্যক্তিগত প্রতারণার কাহিনি নয়। এর বিস্তার আরও অনেক দূর পর্যন্ত। অনুসন্ধানে উঠে এসেছেকী ভাবে দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে সাইবার প্রতারকদের নেটওয়ার্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনতথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর প্রলোভনভুয়ো পরিচয় এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ— এসব কৌশলকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। প্রতিবেদনের ভাষায়ডিজিটাল প্রতারণা এখন আর বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়তা পরিণত হয়েছে এক আন্তঃসীমান্তসংগঠিত এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল অপরাধচক্রে। পুলিৎজার কমিটির বিচারকদের বক্তব্যে এ কাজকে একই সঙ্গে সাহসী এবং গভীরভাবে সমকালীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, বর্তমানে প্রযুক্তি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উপস্থিত নয়বরং তা ভীতিনিয়ন্ত্রণ এবং প্রতারণার অস্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। নজরদারি ও ডিজিটাল কেলেঙ্কারির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জকে এই কাজ অসামান্য দক্ষতায় সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতাসাহিত্য এবং সঙ্গীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়ে আসছে পুলিৎজার সম্মান।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এই পুরস্কার পরিচালনা করে। আন্তর্জাতিক সংবাদজগতে এর গুরুত্ব এমনই যেপুলিৎজার প্রাপ্তি মানেই তা পেশাগত সাফল্যের শীর্ষ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। সে অর্থে ২০২৬ সালের এমন সম্মান ভারতীয় সাংবাদিকতার জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

সম্মান প্রাপক আনন্দ আরকে-এর পরিচয় বহুস্তরীয়। মুম্বাই-ভিত্তিক এই ভিজ্যুয়াল শিল্পী তাঁর স্বতন্ত্র গ্রাফিক বয়ানদৃশ্যভাষা এবং সমকালীন চিত্ররীতির জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে বহুল পরিচিত। ২০১১ সালে তিনি স্যার জেজে স্কুল অফ আর্ট থেকে স্নাতক হন। কমিকস ও চিত্রকাহিনির জগতে তাঁর কাজ ইতিমধ্যেই বিশেষ প্রশংসা অর্জন করেছে। ২০২১ সালে তিনি আইজনার পুরস্কার লাভ করেন। চিত্রশিল্পী জন পিয়ারসনের সঙ্গে ‘ব্লু ইন গ্রিন’ গ্রাফিক উপন্যাসের জন্য ওই সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কাজ প্রকাশিত হয়েছে ‘ডার্ক হর্স কমিক্স’, ‘ডিসি কমিক্স’, ‘ইমেজ কমিক্স’-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় প্রচ্ছদচিত্রভিজ্যুয়াল কাহিনি নির্মাণ এবং সম্পাদনা সর্বত্রই তাঁর স্বাক্ষর স্পষ্ট।

অন্য দিকে, সুপর্ণা শর্মা ভারতীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এক সুপরিচিত নাম। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অপরাধদুর্নীতিসামাজিক অবক্ষয়জাতীয় বিপর্যয় এবং সংঘাতের মতো কঠিন ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছেন তিনি। ২০২৩ সালে ‘আল-জাজিরা’র জন্য তাঁর  অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দিল্লীর বৃদ্ধাশ্রমে দুই প্রবীণের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আনে। প্রতিবেদনে ভারতের বহু-বিলিয়ন ডলারের বৃদ্ধাশ্রম শিল্পের অন্তরালে লোভঅবহেলা আর সত্য গোপনের প্রবণতা সামনে এসেছিল। নারী কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্তার অভিযোগের পর তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণরাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার মাধ্যমে ভোটার প্রভাবিত করার কৌশল— এমন বহু জটিল বিষয়েও ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন করেছেন তিনি। তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে বিবিসি, ফ্রন্টলাইন, আল-জাজিরা, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি অভিজ্ঞ।

উল্লেখ্য, এ বছরের পুলিৎজারের তালিকায় ভারতীয় সাংবাদিকতার আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যও উঠে এসেছে। অনিরুদ্ধ ঘোষাল আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন। হানোই-ভিত্তিক এই সাংবাদিকের অনুসন্ধানে সামনে এসেছেকী ভাবে সীমান্ত এলাকায় আমেরিকা গোপনে এমন সব গণ-নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেযার সূত্রপাত হয়েছিল সিলিকন ভ্যালিতে, এবং পরে যার আরও উন্নয়ন হয়েছে চিনে। ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়েছেকী ভাবে ওই প্রযুক্তি পরে অন্যান্য দেশেও ব্যবহৃত হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!