- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- আগস্ট ৯, ২০২৫
সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র, মুক্তির পথে ‘উদয়পুর ফাইলস’
রাজস্থানের উদয়পুরে ২০২২ সালের ২৮ জুন ঘটে যাওয়া, দর্জি কানহাইয়া লাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘উদয়পুর ফাইলস’ অবশেষে মুক্তি r আস্বাদ পেল দেশের ৪,৫০০টি প্রেক্ষাগৃহে। সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও ছবির মুক্তি এক মাস স্থগিত থাকায় বহু আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়েছিল।
এর আগে, ছবিটির মুক্তি ২০২৫ সালের ১১ জুলাই নির্ধারিত ছিল, কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এবং ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কারণে তা বাধা পায়। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের মাধ্যমে মুক্তির পথ সুগম হয়। মুক্তির পূর্বে, হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত জাভেদ ছবির বিরোধিতা জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। তবে আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।
২০২২ সালের ওই দিন, উদয়পুরের স্থানীয় দর্জি কানহাইয়া লালকে তাঁর দোকানে ঢুকে প্রাণঘাতীভাবে কুপিয়ে মারা হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি বিজেপি নেত্রী নুপুর শর্মার সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলে। এরপরই তাঁকে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার হদিশ মেলে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের চার্জশিটে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও সংগঠিত। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে ‘উদয়পুর ফাইলস’। কানহাইয়া লালের পুত্র যশ সাহুর দাবি, ‘আমাদের পরিবার আজো নিপীড়িত, বিচার পাননি। এ ছবি আমাদের কষ্ট, যন্ত্রণা ও সত্যের দাবির পৃষ্ঠপোষক। আশা করি এই ছবি দেখার পর দেশের মানুষ সঠিক বিচার দাবি করবে।’ তাঁর মা যশোদা সাহু জানান, ‘ছবির মুক্তি আটকে থাকায় আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলাম, যাতে সত্যি সামনে আসে। আমাদের যন্ত্রণা আর লড়াই যেন দেশের সকল মানুষের সামনে উঠে আসে।’
ছবিটির মুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তীব্র ছিল। বিরোধী দল থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তবে অনেকেই মনে করেন, ‘উদয়পুর ফাইলস’ দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পরেও ছবির বিষয়বস্তুর কারণে অনেকটা রক্ষা না পাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে বিচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থনে ছবির মুক্তি নিশ্চিত হওয়ায় এটি বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় রাজ, যিনি কানহাইয়া লালের ভূমিকায় মন ছুঁয়ে যাওয়া অভিনয় উপহার দিয়েছেন। পরিচালক হলেন ভারত এস শ্রীনাতে। ছবিতে স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির বাস্তব ধারনায় নির্মাণ করা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে প্রগাঢ় প্রভাব ফেলে। ছবির চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় জোর দেওয়া হয়েছে ঘটনা সত্যি প্রতিফলিত করার উপর। নির্মাতারা বলছেন, ছবির মূল উদ্দেশ্য শুধু বিনোদন নয়, বরং দেশের নাগরিক সমাজে সচেতনতা বাড়ানো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ছবি দেশের অন্যায় ও বিভাজনমূলক প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি সাহসী প্রতিবাদ। সামনের দিনগুলোতে এটি আরও রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আলোড়ন সৃষ্টি করবে।
❤ Support Us






