Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৬

ভিন্নমত দমনে ‘ইউএপিএ’ আইনের প্রয়োগ ! জেলবন্দি উমর খালিদকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষকের সম্মান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভিন্নমত দমনে ‘ইউএপিএ’ আইনের প্রয়োগ ! জেলবন্দি উমর খালিদকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষকের সম্মান

৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘ইউএপিএ’ আইনে কারাবন্দি জেএনইউ-এর প্রাক্তনী, সমাজকর্মী উমর খালিদ। ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় বিচারপ্রক্তিয়া এখনো শুরু হয়নি। বারবার আবেদন করেও জামিন মেলেনি। দেশজুড়ে নানান সময়ে নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলে তাঁর মুক্তির দাবি উঠেছে। এবার জেলবন্দি অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন উমর খালিদ। তাঁকে ২০২৬ সালের ‘অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স অ্যাট রিস্ক’ সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে আয়ারল্যান্ডের মানবাধিকার সংগঠন ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স’। বৃহস্পতিবার ডাবলিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে জেলে বন্দি থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি খালিদ।   

উমর খালিদের দীর্ঘ কারাবাসকে ভারতের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছে পুরস্কারদাতা সংগঠনটি। তাঁদের বক্তব্য, দেশে ভিন্নমত দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ক্রমবর্ধমান প্রয়োগ, সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা এবং জামিনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিচার শুরু হওয়ার আগেই দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকাকে কার্যত শাস্তি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছে সংগঠনটি। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন খালিদ। তার পর থেকে জেলেই রয়েছেন তিনি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-বিরোধী আন্দোলনের আবহে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। তিন দিনের ওই হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন কয়েকশো মানুষ। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

সে ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে উমর খালিদ, ছাত্রনেতা শারজিল ইমাম-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ‘ইউএপিএ’, অস্ত্র আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আন্তর্জাতিক স্তরে হেয় করার উদ্দেশ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সে পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন খালিদ-সহ একাধিক আন্দোলনকারী। যদিও উমর খালিদ ও তাঁর সমর্থকদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতকে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করতেই এই মামলা। প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ খারিজ করে আসছেন উমর।

পুরস্কার ঘোষণা করে, ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স’ এক বিবৃতিতে বলেছে, উমর খালিদের দীর্ঘদিনের বন্দিদশা ভারতে ভিন্নমতের পরিসর নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগের প্রতিফলন। সংগঠনটির মতে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ক্রমবর্ধমান প্রয়োগের পাশাপাশি জনমত গঠনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং জামিনের কঠোর শর্তের ব্যবহারও এই পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁদের অভিযোগ, জামিনের বিধিনিষেধ এমন ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যাতে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই শাস্তি ভোগ করতে হয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত না-হলেও দীর্ঘ কারাবাসের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হয় না। সংগঠনটির বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করেন যাঁরা, সেই মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক আর ছাত্রছাত্রীরাই এই প্রবণতায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। খালিদের ক্ষেত্রে এ প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার এখনো বিচারপ্রক্রিয়াই শুরু হয়নি।

মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসাবে খালিদের একটি বক্তৃতার উল্লেখ করেছে সরকার পক্ষ। ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে দেওয়া ওই বক্তৃতায় ‘ইনকিলাবি সালাম’ অর্থাৎ বিপ্লবী অভিবাদন এবং ‘ক্রান্তিকারি ইস্তিকবাল’ অর্থাৎ বিপ্লবী অভ্যর্থনার মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন তিনি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানানো জনতার প্রশংসাও করেছিলেন খালিদ। বক্তৃতায় মহাত্মা গান্ধীর উল্লেখ করে অহিংস আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময়েও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। সরকারেরর দাবি, ওই বক্তৃতা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। ট্রাম্পের সফরের সময় অশান্তি সৃষ্টি, বিক্ষোভ সংগঠিত করা এবং রাস্তা অবরোধের পরিকল্পনার সঙ্গে খালিদ যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। তবে, ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স’-এর বক্তব্য, বক্তৃতায় ব্যবহৃত শব্দবন্ধগুলিকে হিংসায় প্ররোচনা হিসাবে দেখার যথেষ্ট ভিত্তি নেই। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সংহতির আহ্বানকে ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁরা।

খালিদের জামিনের আবেদন একাধিক বার খারিজ হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাই কোর্ট খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন ফের নাকচ করে দেয়। এই নিয়ে তৃতীয় বার তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। আদালতের বক্তব্য ছিল, সুপ্রিম কোর্টের ৫ জানুয়ারির নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পক্ষে জামিনের শর্ত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিচারবিভাগীয় শৃঙ্খলা মেনেই শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে। এর আগে ২৬ সালের ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট খালিদ ও ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। মামলার বিচার শুরু হতে দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করেও অভিযোগের গুরুত্ব এবং আদালতে পেশ করা তথ্যপ্রমাণের কথা উল্লেখ করে তাঁদের জামিন দেয়নি শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে এক বছরের আগে নতুন করে জামিনের আবেদন করার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তবে গুলফিশা ফতিমা, শিফা-উর-রহমান, মীরান হায়দর-সহ কয়েক জন সহ-অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, সুরক্ষিত সাক্ষীদের জেরা শেষ হলে অথবা এক বছর পার হলে — যেটি আগে হবে — খালিদ ও ইমাম নতুন করে জামিনের আবেদন করতে পারবেন। ফলে মামলার অন্য কয়েক জন অভিযুক্ত জামিনে মুক্তি পেলেও খালিদের কারাবাস অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাই কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদনের শুনানিতেও দীর্ঘ বিচার-পূর্ব বন্দিদশার প্রসঙ্গ উঠেছিল। পাঁচ বছর ধরে বিচার শুরু না-হওয়া অবস্থায় জেলে থাকার সময়কালকে আদালত মামলার ‘স্বাভাবিক গতি’ বলে উল্লেখ করেছিল। এ মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মানবাধিকারকর্মীদের একাংশের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, বিচার শুরু হতে বছরের পর বছর কেটে গেলে অভিযুক্তের স্বাধীনতার অধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি উপেক্ষা করা যায় না।

দিল্লির জামিয়া নগরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা উমর খালিদ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরোরি মাল কলেজে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অধ্যয়ন কেন্দ্রে স্নাতকোত্তর, এমফিল এবং পিএইচডি করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ঝাড়খণ্ডের সিংভূম অঞ্চলের জনজাতি সমাজের ইতিহাস এবং ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। ২০১৮ সালে জমা দেওয়া গবেষণাপত্র পরে ‘ফ্র্যাকচার্ড কমিউনিটিজ়: আদিবাসী হিস্ট্রিজ় অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব পাওয়ার’ নামে বই হিসাবে প্রকাশিত হয়। জেএনইউয়ে পড়ার সময় থেকেই ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন খালিদ। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আফজল গুরুর ফাঁসির বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন ছাত্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২৪ দিন হেফাজতে থাকতে হয় খালিদকে। পরে তাঁকে এক সেমেস্টারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘দেশবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। যদিও সে মামলা আদালতে টেকেনি। খালিদের বক্তব্য, ওই ঘটনা তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়।

২০১৭ সালে ‘ইউনাইটেড এগেনস্ট হেট’ নামে একটি নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। দেশে গণপিটুনি, সাম্প্রদায়িক হিংসা আর সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিরুদ্ধে তথ্য অনুসন্ধান, প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করত ওই উদ্যোগ। মূলনিবাসী, দলিত, সংখ্যালঘু, শ্রমিক ও কৃষকদের অধিকারের পক্ষে সরব হওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতাও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। ২০১৮ সালের আগস্টে দিল্লির সংবিধান ক্লাবের কাছে ‘খৌফ সে আজ়াদি’ বা ‘ভয় থেকে মুক্তি’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বন্দুকবাজের হামলার মুখে পড়েছিলেন খালিদ। এর আগে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর পুলিশি নিরাপত্তাও চেয়েছিলেন বলে খবর। ২০১৯ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২০ সালের গোড়া পর্যন্ত ‘সিএএ’ ও ‘এনআরসি’-র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত বক্তা হয়ে ওঠেন উমর। তাঁর বক্তব্য ছিল, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা সংবিধানের সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থী। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, সংবিধানের মূল্যবোধ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বিভিন্ন সভায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

উমর খালিদের দীর্ঘ বন্দিদশা নিয়ে শুধু ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স’ই নয়, একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’, ‘সিভিকাস’, ‘ফোরাম-এশিয়া’, ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস’, ‘এফআইডিএইচ’ এবং ‘ওএমসিটি’-সহ বিভিন্ন সংগঠন অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে জামিনের ক্ষেত্রে সমান মানদণ্ড প্রয়োগ, ২০২০ সালের হিংসার প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ‘ইউএপিএ’-র সংস্কার অথবা আইনটি বাতিল করার দাবিও জানানো হয়েছে। ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স’-এর বক্তব্য, খালিদকে ঘিরে ভারতের জনমত বিভক্ত। কেউ তাঁকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ বা ‘দেশবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করেন, আবার অনেকে তাঁকে মানবাধিকার রক্ষক, জনতার কণ্ঠস্বর হিসাবে দেখেন। সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত থাকা জরুরি।

প্রায় ৬ বছরের বন্দিদশার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩০ জুন প্রথম বার প্রকাশ্যে নিজের বক্তব্য জানিয়েছিলেন উমর খালিদ। জেলের পরিস্থিতির কারণে সাংবাদিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব না-হওয়ায় পরিবার ও বন্ধুদের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য পৌঁছয়। দীর্ঘ কারাবাস তাঁর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে জনসমক্ষে তাঁকে কখনো নায়ক, কখনো বা শত্রু হিসাবে তুলে ধরার ফলে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও দুর্বলতাগুলি আড়ালে থেকে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। বন্দিদশা, বিচার শুরুর অনিশ্চয়তা এবং বারবার জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার মধ্যে খালিদকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মান দেওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে ভারতে ভিন্নমতের পরিসর, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ আর বিচার-পূর্ব বন্দিদশার প্রশ্ন। পুরস্কারদাতা সংগঠনটির বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি কোনো এক ব্যক্তির মামলায় সীমাবদ্ধ নয়; তা বৃহত্তর মানবাধিকার পরিস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!